নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দুই দপ্তরের ইজারাদারের জুলুমের শিকার হয়েছেন বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ীরা। সরকারি রেট সিডিউল না মেনে টন ও মণ প্রতি অবৈধভাবে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বিআইডব্লিউটিএ এবং সিটি করপোরেশনের ঘাট ইজারাদার। এই দুই দপ্তরের ইজারাদারের সমন্বয়হীনতায় প্রতিদিনই বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমান। এ নিয়ে গত ২৭ আগষ্ট নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় বিক্ষোভ করেন ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
তারা জানায়, বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মন প্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হতো। গত ৫ই আগস্টের পর স্বৈরাচারীদের এই অত্যাচার বন্ধ হলেও আবার শুরু হয়েছে নৈরাজ্য। বর্তমানে মনপ্রতি ১৮০ টাকা খাজনা আদায় করছে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার।
ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানায়, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে পোর্টরোড মৎস্য আড়তের স্বঘোষিত সভাপতি আব্দুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক কামাল শিকদার ওরফে (ছোট কামাল) এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আল-আমীন ঘাট ইজারাদারের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। এদের জুলুমের শিকার হচ্ছে তারা। এরা ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা না করে হঠাৎ করেই সরকারি দর না মেনে টন ও মণ প্রতি অবৈধভাবে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেয়া শুরু করেন। মূলত এরা বরিশাল মহানগর বিএনপির হেভিওয়েট এক নেতার অনুসারী।
অপরদিকে সিটি করপোরেশনের ইজারাদার পোর্ট রোড ঘাট তাদের দাবী করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করছেন। তারা পোর্ট রোডর ঘাট পাইকারদের নিয়ে আন্দোলন করেন। তাদের দাবী ঘাট সিটি করপোরেশনের। ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের ইজারাদারকে খাজনা দিবে। বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারকে অবৈধভাবে বাড়তি অর্থ দিবেনা। অন্যদিকে, টোল বেশি হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা এই ঘাটে মাছ না এনে অন্য ঘাটে নিতে শুরু করবে। তখন সকল মৎস্য ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। ফলে মাছের সংকট হওয়ার পাশাপাশি মাছের দাম অনেক বেড়ে যাবে। যার প্রভাব জনগণের উপরে পড়বে।
এ বিষয়ে পোর্টরোড মৎস্য আড়তের স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক কামাল শিকদার ওরফে (ছোট কামাল) বলেন, বরিশাল পোর্ট রোড ঘাটে লোডিং-আনলোডিং এর মূল্য নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ এবং সিটি করপোরেশনের ইজারাদারের মধ্যে ঝামেলা চলছে। সিটি করপোরেশনের লোকজন যারা ইজারা নিছে, তারা বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারকে কোন টাকা উঠাতে দেয় না। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার পোর্ট রোড থেকে কোন টাকাই উঠাতে পারছে না। কারন সিটি করপোরেশনের ইজারাদার তাদের প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনারের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।
মণ প্রতি অবৈধভাবে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট ইজারাদার লোডিং-আনলোডিং এর জন্য প্রতি কেজিতে ২ টাকা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সিটি করপোরেশনের বাজার শাখার ইজারাদার পোর্ট রোডর ঘাট পাইকারদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবী সিটি করপোরেশনের ইজারাদার খাজনার টাকা ভোগ করবে। বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট ইজারাদার খাজনার টাকা উঠাতে পারবে না।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ঘাটটির ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালে ঘাটটি ইজারার সর্ব নিম্ন দর ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এসময় সর্বোচ্চ দরদাতা ১ কোটি ৭৫ টাকায় ঘাটটি পায় একটি প্রতিষ্ঠান। তখন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মণ প্রতি ইলিশ ১০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। অথচ দরপত্রের সাথে দেয়া রেট সিডিউলে উল্লেখ থাকে টন প্রতি ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। এতে মণ প্রতি হয় প্রায় দেড় টাকা। তারপরও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মন প্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হতো। ২০২৫ সালে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে ঘাটটি ইজারার সর্ব নিম্ন দর দেয় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা ২০২৪ সালের ইজারা মূল্যের তুলনায় ২০২৫ সালে প্রায় দ্বিগুণ।
এ বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, বর্তমানে ঘাট ইজারা দেয়া আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো না কারন আমার বদলির আদেশ হয়েছে। আমি আগামীকাল নতুন কর্মস্থলে যোগদান করছি।