সেজ ভাইয়ের চোখ উপড়ে ফেললেন অপর দুই ভাই, বাবাসহ আসামি ৮

রিপন ব্যাপারী নামের চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে কয়েকজন ঘিরে রেখেছেন। একজন রিপনের বুকে উঠে, অন্যরা পাশে বসে হাত-পা চেপে ধরেছেন। এরপর একজন আঙুল দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাঁর বাম চোখ উপড়ে ফেলে এক নারীর হাতে দেন। সেখানেই ক্ষান্ত হননি তাঁরা। চোখ তুলে ফেলার পর রক্তাক্ত রিপনকে মারধরও করা হয়।
পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামে। ঘটনাটি গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে ঘটলেও চোখ তোলার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
রিপনের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁর বড় দুই ভাই রোকন ব্যাপারী ও স্বপন ব্যাপারী এবং রোকনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম লোকজন নিয়ে রিপনের চোখ খুঁচিয়ে তুলে ফেলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁরা এ নির্যাতন চালান।
আজ বুধবার রিপন ব্যাপারীর ছেলে মো. শাহিন ব্যাপারী বলেন, ‘ভিডিওতে আমার বাবার বুকে উঠে চেপে ধরে যাঁকে আঙুল দিয়ে বাম চোখ উপড়ে ফেলতে দেখা যায়, তিনি তাঁর মেজ ভাই রোকন ব্যাপারী। আর পা চেপে ধরেছিলেন তাঁদের চোট ভাই স্বপন ব্যাপারী। যাঁর হাতে উৎপাটিত একটি চোখ দেওয়া হয়েছিল, তিনি রোকনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম। আর রক্তাক্ত অবস্থায় বাবার মুখমণ্ডলে মারধর করেন রোকনের মেয়ে সুবর্ণা আক্তার।’
জানা গেছে, রিপন ব্যাপারী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আরশেদ ব্যাপারীর সেজ ছেলে। চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠা রোকন ব্যাপারী (৫৫) তাঁর মেজ ভাই এবং পা চেপে ধরা স্বপন ব্যাপারী (৪২) তাঁদের ছোট ভাই। ওই সময় তাঁদের বাবা আরশেদ ব্যাপারী উপস্থিত ছিলেন। রিপনের এক চোখ তুলে ফেলার পর সেটি তাঁর বাবার হাতেও একবার দেওয়া হয়েছিলে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।
গুরুতর আহত রিপনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে পাশের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গতকাল সকালে তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার রিপনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বপন ব্যাপারী, রোকন ব্যাপারী, তাঁদের বাবা আরশেদ ব্যাপারীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মুলাদী থানাকে প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নাজিম উদ্দিন পান্না এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিপনের ছেলে শাহিন ব্যাপারী জানান, তাঁর মেজ চাচা রোকন ব্যাপারীর কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার গচ্ছিত রেখেছিলেন তাঁর বাবা। এ ছাড়া জায়গাজমি নিয়েও বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মেটাতে চাচারা তাঁদের বাবাকে সংবাদ দিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে ডেকে আনেন। গত শুক্রবার বিকেলে রিপনের সঙ্গে তাঁর ভাইদের কথা-কাটাকাটি হয়। বিরোধ মেটাতে পরদিন শনিবার সকালে এলাকায় সালিস বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দুই চাচা লোকজন নিয়ে রিপন ব্যাপারীর এক চোখ উপড়ে ফেলেন।
বাবাকে নিয়ে চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে পারেননি বলে জানান শাহিন। তবে তাঁর মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে বরিশাল আদালতে মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বরিশাল আদালত থেকে বাদী লিখিত আবেদনের অনুলিপি ও বিচারকের আদেশ থানায় পৌঁছার পর তা আজ বিকেলে মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের দুটি দল নাজিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।