ভোলায় বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৪৫, আগস্ট ২৬ ২০২৫ মিনিট

ভোলার বাজা‌রে ইলি‌শের সরবরাহ কিছুটা বে‌ড়ে‌ছে। বাজারগু‌লো‌তে বি‌ভিন্ন আকারের ইলিশ নি‌য়ে এসে‌ছেন খুচরা বিক্রেতারা। ত‌বে দাম ‌নি‌য়ে ক্ষোভ র‌য়ে‌ছে সাধারণ ক্রেতা‌দের। ক্রেতাদের দাবি, ইলিশ কিন‌তে বাজা‌রে এসে হিম‌শিম খা‌চ্ছেন তারা। সামর্থ্য অনুয়ায়ী পছ‌ন্দের আকারের ইলিশ কিন‌তে পার‌ছেন না। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপু‌রের দি‌কে ভোলা শহ‌রের কি‌চেন মা‌র্কেটে স‌রেজ‌মি‌নে গি‌য়ে দেখা গে‌ছে, ভোলার তুলাতু‌লি, ইলিশার জংশন, ভোলার খাল, না‌ছির মা‌ঝি মৎস্য ঘাটসহ বি‌ভিন্ন ঘাট থে‌কে ইলিশ নি‌য়ে এসে‌ছে খুচরা বি‌ক্রেতারা। এক কে‌জি, ৭০০-৯০০ গ্রাম, ২০০-৬০০ গ্রাম সব আকারেরই ইলিশ র‌য়ে‌ছে বি‌ক্রেতা‌দের কা‌ছে। বাজারও র‌য়ে‌ছে ক্রেতা‌দের বেশ ভিড়। কিন্তু ইলি‌শের দাম নি‌য়ে ক্রেতারা সন্তুষ্ট নন। ক্রেতা মো. ইকবাল হো‌সেন, খাইরুল আলম ও খু‌শি আক্তার জানান, তারা বাজা‌রের এসে‌ছেন ইলিশ কিন‌তে। কিন্তু দাম বে‌শি হওয়ায় পছ‌ন্দের আকারের ইলিশ কিন‌তে হিম‌শিম খা‌চ্ছেন। তাই ৬০০-৭০০ গ্রা‌মের ইলিশ ১৭০০ টাকা কে‌জি দরে কি‌নেছেন। ৯০০ গ্রাম থে‌কে এক কে‌জি আকারের ইলিশ কেনার ইচ্ছে থাকলেও দাম বে‌শি হওয়ায় কিন‌তে পা‌রেন‌নি বলে জানান তারা। ক্রেতা আক‌লিমা বেগম, হারুন অর র‌শিদ ও শান্তা রহমান জানান, এক কে‌জির ইলিশ বাজা‌রে ২৫০০-২৭০০ টাকায় বি‌ক্রি কর‌ছেন বি‌ক্রেতারা। ত‌বে সাগ‌রের ইলিশ আরও ৫০০ টাকা কম হলেও তেমন সুস্বাদু না হওয়া সেগু‌লো কেনেননি। ক্রেতা ফারজানা বেগম, তৈয়বুর রহমান ও মো. হেলাল জানান, সারা‌দে‌শে ৩৩ ভা‌ড়ের বে‌শি ইলিশ অহরণ হয় ভোলায়। কিন্তু ভোলার বাজা‌রের ইলি‌শের দাম ঢাকা, চাঁদপুর, ব‌রিশালসহ বি‌ভিন্ন জেলার থে‌কে বে‌শি, এটি মে‌নে নেওয়া যায় না। তারা আরও জানান, বিগত বছরগু‌লোর তুলনায় এ বছর ভরা মৌসু‌মে ইলি‌শের দাম বে‌শি র‌য়ে‌ছে। ইলি‌শের খুচরা বি‌ক্রেতা মো. জয়নাল ও মো. জু‌য়েল ব‌্যাপারী জানান, জাটকার কে‌জি ৬০০-৭০০ টাকা, ৬০০-৯০০ গ্রা‌মের ইলি‌শের দাম ১৪০০-২২০০ টাকা ও এক কে‌জি ও তার বে‌শি আকারের ইলি‌শের দাম ২৫০০-২৭০০ টাকা বি‌ক্রি কর‌ছি। বি‌ক্রেতা মো. ম‌হিউদ্দিন জানান, ইলি‌শের সরবরাহ আগের চে‌য়ে কিছু বে‌ড়ে‌ছে কিন্তু ঘা‌টে দাম ক‌মে‌নি। চা‌হিদা বে‌শি থাকায় দাম বে‌শি র‌য়ে‌ছে। ঘাট থে‌কে তারা বে‌শি দা‌মে কি‌নে খুচরা বাজা‌রের ১০০-২০০ টাকা বে‌শিতে বি‌ক্রি কর‌ছেন। ভোলা সদ‌রের তুলাতু‌লি মৎস‌্য ঘা‌রে আড়তদার মো. কামাল ব‌্যাপারী ও মঞ্জু ইসলাম জানান, তারা ঢাকা, ব‌রিশাল ও চাঁদপুরের পাইকারি আড়ত থে‌কে দাদন এনে জে‌লে‌দের দি‌য়ে‌ছেন। এখন পাইকারি আড়তদারদের চাপ আছে কিন্তু তেমন সরবরাহ বা‌ড়েনি। এজন‌্য দাম এখনও বে‌শি র‌য়ে‌ছে। ত‌বে আগামী সপ্তা‌হে ইলি‌শের সরবরাহ আরও বাড়‌বে। তখন কেজিপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা ক‌মে যা‌বে। ভোলা জেলা মৎস‌্য কর্মকর্তা বিশ্ব‌জিৎ কুমার দেব জানান, বর্তমা‌নের ইলি‌শের ভরা মৌসুম শুরু হ‌য়ে‌ছে। জে‌লে‌দের জা‌লে ইলিশ ভা‌লোই ধরা পড়ছে। আগামী ক‌য়েক দিন পর বে‌শি ধরা পর‌বে। তখন জে‌লেরা কাঙ্ক্ষিত প‌রিমাণ ইলিশ পা‌বেন। দামও ক‌মে যা‌বে।