বরিশাল নগরীর আলোচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেলভিউ হসপিটাল এণ্ড মেডিকেল সার্ভিসেস্ (প্রাইভেট) লিমিটেডকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র আপন মামা কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল। রাজনৈতিক পদবিহীন এই ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে বিভাগীয় শহর বরিশালে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন, তার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলসহ পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে।
অত্যন্ত প্রতাপশালী কাজী কামালকে বেলভিউ হস্পিটাল নিয়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তেমন একটা প্রশাসনিক ঝামেলায় পড়তে দেখা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে একাধিক মামলায় জড়িয়ে তাকে বেশকিছু দিন কারাবন্দি থাকতে হয়।
বুধবার বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শাফিনুর রহমান আকন্দের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজী কামালের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেন এবং জরিমানাও করলেন। ভেলভিউ কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত কারণে সেবাগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য, অর্থ এবং জীবনহানির সম্ভাবনা থাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এই জরিমানা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। শহরের মহাবাজ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হৃদয়ের ৯ মাস বয়সি সন্তান রায়হান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে চারদিন পূর্বে ২২ সেপ্টেম্বর বেলভিউ হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। দুদিন বাদে ২৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্বরত চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ‘ভ্যানমাইসিন’ প্রয়োগ করার পরপরই বেশি অসুস্থ হয়ে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। অবশ্য ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর এই অভিযোগ তৎসময়েই অস্বীকার করেছিলেন কাজী কামাল।
বরিশালের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র শ্যালক কাজী কামাল দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াগনস্টিক এবং বেসরকারি হাসপাতাল অঙ্গন এককভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে প্রভাবশালী এই ব্যক্তি ক্ষমতা হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েন।
এরপরে আত্মগোপনে থাকলেও গ্রেপ্তার হয়ে একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন কারান্তরীণ থাকতে হয়। কিছু দিন পূর্বে জামিনে মুক্ত হয়ে এখন তিনি কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। আর সেই সময়ই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।’