অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে বরিশালে আসা এবং শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করাসহ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্র-জনতা। রোববার বিকেল ৫টার দিকে সংগঠক মহিউদ্দিন রনির এমন আল্টিমেটাম ঘোষণা পরপরই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর আগে বেলা ১১টা থেকে টানা চতুর্থ দিনের মতো শহরের নথুল্লাবাদ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ছাত্র-জনতা। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল রয়েছে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করাসহ ৩ দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ আগে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বরিশালে আসেন সংগঠক মহিউদ্দিন রনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত এই শিক্ষার্থীর ডাকে সাড়া দিয়ে যৌক্তিক ইস্যুতে রাজপথে নেমে আসেন শতশত মানুষ। প্রথম ১০ দিন তারা বরিশাল শহরের সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সম্মুখে মানববন্ধনসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে ছাত্র-জনতা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়। গত ৪ দিন যাবৎ বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্র-জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা নিয়ে শনিবার বাস শ্রমিকদের সাথে ছাত্র-জনতার হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটে। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করা ইস্যুটি যৌক্তিক হওয়ায় উভয়পক্ষ রাতে বৈঠক করে সমঝোতায় আসেন। এবং ছাত্র-জনতার সড়ক অবরোধ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকে।
জানা গেছে, রোববার ১১টায় চতুর্থ দিনের মতো নথুল্লাবাদ এলাকায় রনির নেতৃত্বে মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকে যায়। এবং যাত্রী সাধারণকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিন দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে সংগঠক মহিউদ্দিন রনিসহ ছাত্র-জনতাকে সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলেও সেখানে উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করিমসহ তার অনুগত কর্মী-সমর্থকেরা। এরপরে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ রাখা হয় এবং বিকেল ৫টার দিকে সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছাত্র-জনতা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সরে যান।
২০২২ সালে রেলওয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসা রনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করাসহ ৩ দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। কিন্তু এই যৌক্তিক ইস্যু নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোনো মাথা ব্যথা নেই। রোববার সড়ক ছেড়ে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে আসবেন এবং শেবাচিমের দুর্নীতি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। নতুবা সাধারণ মানুষের এই দাবি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও কঠোর কর্মসূচির বিষয়টিও আলোচনায় রাখা হয়েছে।
ছাত্র-জনতা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরে যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে এবং যাত্রী সাধারণের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার। তিনি জানান, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রোববারও মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শেবাচিমের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। এদিন বেলা ১১টায় শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।