মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের সংকট, দু:চিন্তায় জেলেরা

দেশ জনপদ ডেস্ক | ১৮:৫৬, নভেম্বর ০৫ ২০২২ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মা ইলিশ রক্ষার অভিযান শেষে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও হঠাৎ করেই আবার ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে। র্দীঘদিন পর ইলিশের দেখা পেয়ে যখন জেলেরা তাদের ধার দেনা শোধ করার স্বপ্ন দেখছিল তখন ইলিশ সংকটে তাদের সেই স্বপ্ন ভাঙার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা কীভাবে তাদের সংসার চলবে তা নিয়ে দু:চিন্তায় পড়েছে জেলেরা। গত ১ সপ্তাহ ধরে নদীতে প্রচুর পরিমাণ পাঙ্গাশ মাছ পেয়ে জেলেরা ইলিশের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছিল। তাও এখন কমতে শুরু করেছে। এতে করে জেলেরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। ভোলা মৎস্য বিভাগ ও জেলেরা জানান, গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে ২২ দিন সকল প্রকার মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় পরিবার পরিজন নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছে জেলেরা। মৎস্য বিভাগের হিসেবে ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৫৮ হাজার। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কালীন সরকারি ভিজিএফ’র ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দেয়া হয় ১ লাখ ৩২ হাজার জেলেদের। নিবন্ধিত জেলের বাইরে আরো অন্তত প্রায় ১ লাখ জেলে রয়েছে। তাই সকল জেলের ভাগ্যে চাল জুটেনি। তারা আশায় ছিলো নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাবে। তাদের সেই আশা প্রথম দিকে সত্যও হয়। ২৮ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। র্দীঘদিন পর তারা প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পেয়ে লাভের আশায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তারা ভেবেছিলো প্রচুর পরিমাণ মাছ পেয়ে লোকসান কাটিয়ে ধার দেনা পরিশোধ করবে । কিন্তু অভিযানের ৩ দিন পর থেকে জেলেদের জালে ইলিশ ধরার পরিমাণ কমতে থাকে। এখন কিছু ডিমওয়ালা ইলিশ ও ঝাটকা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পরছে তা বিক্রি করে ট্রলারের ইঞ্জিনের তেলসহ অন্যান্য খরচের দামও ওঠছে না বলে জানান ভোলার ইলিশা মাছ ঘাটের জেলে হারেস মাঝি। অন্য জেলেরা বলছে, তারা ধার দেনা করে নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছে। কিন্তু যে পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছে তা দিয়ে খরচের টাকাই উঠছে না। কিভাবে তারা ঋণ পরিশোধ করবে তা নিয়ে দু:চিন্তায় রয়েছে। শনিবার সকালে ভোলা ইলিশা মৎস্য ঘাটের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মো: শাহাবুদ্দিন জানান, বর্তমানে জেলেদের জালে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের হালি প্রায় ৬ হাজার টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার টাকা। এদিকে মেঘনা নদীতে ইলিশের সংকটের পাশাপাশি পাঙ্গাশের পরিমাণও কমে গেছে। ভোলার তুলাতুলি মাছঘাটের ব্যবসায়ী আসলাম জানান, ইলিশ মাছ কমে গেছে। একই সঙ্গে আগের মতো পাঙ্গাশ মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। আগে পাঙ্গাশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বড় সাইজের গুলো বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদ জানান, মা ইলিশ রক্ষার অভিযান শেষে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু এখন কম পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে- ডিম ছেড়ে ইলিশ সাগরে চলে গেছে। সামনে পানি বাড়লে আবার ইলিশ ধরা পড়বে। এ বছর ইলিশের উৎপাদন ছিলো ১ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিট টন। আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন লক্ষমাত্র আশা করা হচ্ছে ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন হবে ।