মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণোত্তর দেহদান স্কুলশিক্ষকের
দেশ জনপদ ডেস্ক|২০:৫৪, ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২২ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শচীন্দ্রের ছেলে সহকারী অধ্যাপক মানস কুমার রায় বলেন, ‘আমার বাবা জাতি গড়ার একজন কারিগর। মৃত্যুর পর চিকিৎসাশিক্ষায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণোত্তর দেহ দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’
শচীন্দ্র নাথ রায় সারা জীবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়িয়েছেন। মৃত্যুর পরও চেয়েছেন শিক্ষার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে। তাই মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের দেহ দান করে গেছেন।
বার্ধক্যজনিত কারণে গত ১ জানুয়ারি মৃত্যু হয় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বৌলাকান্দা বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক শচীন্দ্রের। তার বাড়ি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ক্লাব রোডে।
মরণোত্তর ধর্মীয় কিছু আচার শেষে ২ ফেব্রুয়ারি সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শাহিনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন শচীন্দ্রের সন্তানরা।
শচীন্দ্রের ছেলে সহকারী অধ্যাপক মানস কুমার রায় বলেন, ‘আমার বাবা জাতি গড়ার একজন কারিগর। আমৃত্যু তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানবকল্যাণে কাজ করে গেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পড়িয়েছেন।
‘মৃত্যুর পর চিকিৎসাশিক্ষায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণোত্তর দেহ দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমার বাবা।’
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শচীন্দ্র নাথ রায়ের মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে তার পরিবার। এই দেহ দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’