নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের তীর রক্ষার জন্য ৬০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করবে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এলক্ষ্যে তিনটি পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
রোববার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির তিনটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাতটি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তিনটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিনটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি, জননিরাপত্তা বিভাগের একটি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল।
তিনি বলেন, কমিটির অনুমোদিত ১৬টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৪ টাকা। এর মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৪৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮১ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ ৯৩৭ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ টাকা।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাবনাবাদ চ্যানেলের তীর রক্ষার জন্য চেইনেজ ০০+০০০ থেকে ০২+২০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। ৫৬ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ২০৩ টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে এমএকিউ, ইপিসি এবং এফকে।
তিনি জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাবনাবাদ চ্যানেলের তীর রক্ষার জন্য চেইনেজ ০২+২০০ মিটার থেকে ০৪+৪০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে। ৫৬ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ২০৩ টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে এবিএম এবং জেআই।
একই প্রকল্পের অন্য এক প্রস্তাবে রাবনাবাদ চ্যানেলের তীর রক্ষার জন্য চেইনেজ ০৪+৪০০ মিটার থেকে ০৬+৬০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে। যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে কে কে এন্টারপ্রাইজ এবং ডিজি বাংলা। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাব হলো- জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক একটি যানবাহন মাউন্টেড ডেটা ইন্টারসেপ্টর (ভিওআইপি) এবং রিলেটেড সার্ভিসেস। এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের মোবিলেম ইনস্টিটিউট এটি বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক ‘সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)’ এর কম্পোনেন্ট-২ বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিওডব্লিউআই এ/এস এবং মট ম্যাকডোনাল্ডকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩০৮ টাকা।