নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ও পিয়ার প্রটেকশন ব্যবস্থা করা হয়েছে পটুয়াখালীর লেবুখালীতে নবনির্মিত পায়রা সেতুতে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ওভার লোডের যানবাহন চলাচলে সেতুর ভাইব্রেশনে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে সে বিষয়ে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ওয়ার্নিং দেবে।
পটুয়াখালীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকাকে সমৃদ্ধ করতে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করবে পায়রা-লেবুখালী সেতু।
সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এজন্য সেতুটিতে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।
পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হালিম জানান, সেতুটির কিছু শৈল্পিক বিশেষত্ব আছে। যেমন পায়রা সেতুটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় স্প্যান বিশিষ্ট সেতু। যার দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার। পদ্মা সেতুতে ১২০ মিটার পাইল করা হলেও পায়রা সেতুতে ১৩০ মিটার পাইল করা হয়েছে।
সূত্রে আরও জানা যায়, সেতুতে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারের ফলে বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ওভার লোডের যানবাহন চলাচলে সেতুর ভাইব্রেশনে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে সে বিষয়ে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ওয়ার্নিং দেবে। এটি বাংলাদেশের ২য় সেতু যা এক্সট্রা ডোজ ক্যাবেল সিস্টেমে তৈরি করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে একটি এবং দুইপাড়ে দুটি পিয়ারের ওপর মূল সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে।
পিয়ারের দুই পাশে ১২টি ক্যাবল সংযুক্তসহ মোট ৩৬টি ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে সেতুটিতে। নদীর গতিপথ সচল রাখতে পিয়ারগুলো ২০০ মিটার দূরত্বে স্থাপন করা হয়েছে। যাতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়। সম্প্রতি পদ্মা সেতু পিয়ারের সঙ্গে ফেরি ও নৌযানের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের বিষয়টি মাথায় রেখে পিয়ারের চারপাশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও সেতুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সোলার সিস্টেম যা পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (লনজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনেস্টাকশন) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করছে। ১৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি ক্যাবল দিয়ে দুই পাশে সংযুক্ত করা হয়েছে। কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ বিনিয়োগে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে লেবুখালী-পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে।