আর কোনদিন ছেলের হত্যার বিচার চাইবেন না মমতাজ

দেশ জনপদ ডেস্ক | ০১:০৩, জুলাই ০৬ ২০২১ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পুত্র হত্যার বিচার চেয়েছিলেন বৃদ্ধ মা মমতাজ বেগম৷ বয়সও হয়েছিল ঢের, শরীরে বাসা বেঁধেছিল ভয়ানক ক্যান্সার সহ নানান রোগ। অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছিল চলার শক্তি। অথচ বিচারকাজ এগোচ্ছে না দেখে ক্ষোভ নিয়ে  বলেছিলেন, ‘‘আমি আর কোনদিন ছেলের হত্যার বিচার চাইব না”। এমনই ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ে চলে গেলেন নিহত দলিল লেখক রিয়াজের হতভাগ্য মা মমতাজ বেগম। ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না তিনি। গত রবিবার ৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের শালুকা গ্রামে মেঝ মেয়ের জাহেদা’র বাস ভবনে মৃত্যুবরন করেন।  তবে মৃত্যুর পূর্বে একটাই প্রার্থনা ছিলো ছেলের হত্যাকারীকে নিজ চোখে দেখা এবং ফাঁসির রায় শুনে যাওয়া। কিন্তু বিধাতা তার আশা পুরন করেননি। তুলে নিলেন পরপারে। ছেলে হত্যার পর ২ বছর ২ মাস জীবিত থাকলেও এই সময়ে শুধু হত্যা মামলার নিত্য নতুন নাটকীয়তাই দেখেছেন তিনি। দুঃখ-কষ্ট বেদনা যেন আকড়ে ধরেছিলো তাকে। যা থেকে আর পরিত্রান পাওয়া সম্ভব হয়নি। ছেলে দলিল লেখক রিয়াজের ডাকে সারা দিয়ে চির বিদায় নিয়েছেন হতভাগ্য মা মমতাজ বেগম। এদিকে ছেলের হত্যার বিচার তো পাননি বরং প্রতিনিয়ত সহ্য করেছেন প্রতিপক্ষের অসহনীয় সব অত্যাচার। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজ ঘরে নির্মনভাবে মেঝ ছেলে দলিল লেখক রেজাউল করিম রিয়াজ কে গলা কেটে হত্যা করা হয়। যে মামলা একাধিক থানা ও তদন্তকারী কর্মকর্তার হাত ঘুরে বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে মরহুমার বড় ছেলে রিপন বলেন, মূলত রিয়াজ খুন হবার পরই মা শারিরিক ও মানুষিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরে। এরপর থেকে আর কখনোই পরিপূর্ন সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। ছেলে হত্যার বিচার চাইতে চাইতে ধুকে ধুকে শেষ পর্যন্ত পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেন মা। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার বিলম্বিত শুধু হচ্ছে না, বিচার কাঁদছেও।বিচারের জন্য শুধু আমার মা নয়, সারাদেশের মায়ের অন্তর কাঁদে। এই দুঃখ-যন্ত্রনা সারাজীবন আমাদের অন্তরের গভীর থেকে গভীরে দাগ কেটে যাবে। তিনি অভিযোগ নিয়ে বলেন, এ তদন্ত কবে শেষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি সিআইডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে পুলিশ যে চার্জশিট দিয়েছিল তা জানার পর থেকেই মা আরো ভেঙে পরেছিলেন। সারাক্ষন কাঁদতেন আর আপসোস করে বলতেন, নতুন করে কী তদন্ত করবে। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী চাইলেই আমার ছেলের হত্যার বিচার হবে, অন্যথায় সম্ভব না।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমার মা রিয়াজ হত্যার সুষ্ঠ বিচারের দাবীও জানিয়েছেন।