ক্ষমতাসীনের দাপটে বিব্রত নগর পুলিশ

দেশ জনপদ ডেস্ক | ০২:০৬, মে ৩০ ২০২১ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের চাপে বিব্রত বরিশাল মহানগর পুলিশ প্রশাসন। কথায় কথায় থানা ঘেরাও, পুলিশি কাজে যত্রতত্র বাধা, ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের উপর কর্তৃত্ব ও অসদাচারন সহ নানান বির্তকিত কর্মকান্ডে এহেন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। তবে এব্যাপারে বরিশাল মহানগর আলীগ সভাপতি এ্যাড.মো:জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে অবশ্যই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। তবে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরপর দু’বার থানা ঘেরাও এবং পুলিশি কাজে সরাসরি নগ্নভাবে বাঁধা দেয়াসহ চরম অসদাচারণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আমাদের রাজনৈতিক কর্মীকে রক্ষা করার জন্য সাংগাঠনিক কর্মসূচী ছিলো মাত্র। আর অসদাচারণের বিষয়ে বলেন, দু-একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে তবে তাও আমরা সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের সাথে প্রশাসনের কিংবা কোন মহলের অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হলেই পুরো শহর জুড়ে তৈরী হয় নেতা-কর্মীদের ত্রাস। এমনই ঘটনার জন্ম দিয়ে চলতি বছরেই পরপর দুবার ঘেরাও করা হয়েছে থানা। শুধু তাই নয়, পুলিশি কাজে সরাসরি নগ্নভাবে বাধা দেয়াসহ চরম অসদাচারণের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন শ্রমিক নেতা-কর্মীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি ছাত্র সমাজ। জানা গেছে, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ৯৯৯ নাম্বারের কল পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ এক ভুক্তভুগী পরিবারকে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য নগরীর ২১নং ওয়ার্ডে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মান্না কর্তব্যরত পুলিশদের সাথে চরম অসদাচারণ করেন। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে গণমাধ্যমসহ স্যোসালমিডিয়ায় ভাইরাল হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ওখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়। পরে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। অবশ্য এ বিষয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন পুলিশ। এব্যপারে কোতয়ালি থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিশতো জননিরাপত্তার জন্য কল পেলে যাবেই। সেক্ষেত্রে যদি পুলিশের সাথে জনপ্রতিনিধির এধরণের আচরণ তৈরী হয় তাহলে তো সার্বিক পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্নবিদ্ধতা তৈরী হয়। আর এঘটনায় আমাদের উর্ধ্বতন মহলে আলাপ আলোচনা চলছে সিদ্ধান্ত পেলে করণীয় বাস্তবায়ন গ্রহন করা হবে। এদিকে, এঘটনার আগে চলতি বছরের মে মাসের ১৭ তারিখ কাশিপুর এলাকায় ওয়ার্ড আলীগ নেতা রিপনকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাও করা হয়। এসময় মহানগর আলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে দুপুরে থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে চাঁদাবাজির মামলার আসামী আ.লীগ নেতা রিপনকে না ছাড়লে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন তারা। যদিও ওই মামলায় রিপনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। উক্ত ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, ওয়ার্ড আলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করায় কিছু লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়। পরবর্তীতে তাদের বুঝিয়ে সড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়াও অপর আরো একটি ঘটনায় নগরীকে কয়েক ঘন্টার জন্য অচল করে দিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটায় ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাকর্মীরা। সূত্রে জানা গেছে, এই বছরের জানুয়ারির ২০ তারিখ বিসিক শিল্প নগরীর ১নং ওয়ার্ড আলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগকে এক নারী কর্মীকে যৌন হেনেস্থার অভিযোগের ঘটনায় কাউনিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করে ফরচুন সু-কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। এঘটনায় কাউনিয়া থানা ঘেরাও করার পাশাপাশি নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেয়া হয়েছিলো। তবে এব্যাপারে, বিসিসি’র ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, থানা পুলিশের উপর কোন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। আমাদের এক কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পক্ষে মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিচ্ছিল না। এ কারণে আমরা বিষয়টি জানতে এসেছি। যদিও পরে ওসি মামলা নিয়েছেন। এনিয়ে ফরচুন সু-এর মালিক মো. মিজানুর রহমান জানান, তার কারখানার এক নারী শ্রমিককে বিসিক এলাকার মধ্যে উত্যক্ত করে সোহাগ। তিনি গাড়িতে কারখানার দিকে যাওযার সময় এ ঘটনা দেখে সোহাগকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। এদিকে এনিয়ে একাধিক সচেতনমহলসহ মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাংগাঠনিক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, এসরকারের প্রতি পুলিশের যে ভুমিকা তা অগ্রগণ্য এরপরেও যদি ক্ষমতাসীন দলীয়দের দ্বারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় পুলিশকে তাহলে আলীগের জন্যই ভবিষ্যত অন্ধকার।