শেবাচিম হাসপাতালের জনবল নিয়োগের দুর্নীতি তদন্তে হচ্ছে কমিটি

দেশ জনপদ ডেস্ক | ২২:২২, মে ২৩ ২০২১ মিনিট

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ অবশেষে গঠিত হচ্ছে বহুল অভিযোগে অভিযুক্ত শেবাচিম হাসপাতালে জনবল নিয়োগ ইস্যুতে তদন্ত কমিটি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সহকারী সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতি ও কিছু দিন আগে সচিব স্যারের বদলি, সব মিলিয়ে কাজটিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই ফাইলটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি চলতি সপ্তাহেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ে যাবে। তখনই বলা যাবে কমিটিতে কারা থাকবেন এবং কত সদস্য বিশিষ্ট হবে। এর আগে গত ৪ মার্চ নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এমন সন্দেহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। তথ্য মতে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২টি ক্যাটাগরিতে ৩য় শ্রেণীর ৩২ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য গত বছর ২৩ ডিসেম্বর একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ৫ ফেব্র“য়ারি প্রায় ৭০০ আবেদনকারীর অংশ গ্রহণে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় ৪৪৪ জনকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ৬ ফেব্র“য়ারি ফলাফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর সন্তান ও স্বজন জালিয়াতি করে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওইদিন পরীক্ষার হলে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নকল সরবরাহ করে বলে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগে গত ৯ ফেব্র“য়ারি হাসপাতালের পরিচালক সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন দুই পরীক্ষার্থী। এরপরও নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রাখায় তারা ওই নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার ১৫ ফেব্র“য়ারি বিচারপতি একে-এম শহীদুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ কেন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হবে না জানতে চেয়ে রুল জারীর নির্দেশ দেন। একই সাথে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও হাসপাতাল পরিচালক মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ২৬ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে অবসরে যান হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিজের সেচ্ছাচারিতায় করেছেন তৎকালীন পরিচালক বাকির। অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় অনিয়ম দূর্নীতির এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে নিজের ইচ্ছেমত সকল সেচ্ছাচারিতাই করেছেন পরিচালক ডা. বাকির।