নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনার বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর ও সর্বাত্মক লকডাউনে সারাদেশের ন্যায়ে বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সকল যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে টানা দেড় মাস কর্মহীন হয়ে আছে এই অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার লঞ্চ শ্রমিক।
এসময় বেতন-বোনাস পাওয়া তো দূরের কথা প্রশাসন ও লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে নামমাত্র ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন তারা। কর্মহীন হওয়ায় আয়-রোজগার না থাকায় মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা ও হতাশ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন লঞ্চ শ্রমিকরা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় ধাপ প্রতিরোধে লকডাউন বাস্তবায়নে গত মাসের ৫ এপ্রিল সারাদেশের ন্যায়ে বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সকল যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার৷ এরপর থেকে কয়েক ধাপে লকডাউন বাড়িয়ে চলতি মাসের ২৩ মে পর্যন্ত করা হয়।
বরিশাল নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় ধাপের লকডাউনের শুরু গত মাসের ৫ এপ্রিল থেকে চলতি মাসের ২২ মে পর্যন্ত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার লঞ্চ ও লঞ্চঘাট শ্রমিক৷ এছাড়া বরিশাল লঞ্চঘাটে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ নৌযান শ্রমিক রয়েছে। যাদের আয় রোজগার নির্ভর করে লঞ্চ চলাচলের ওপরে।
বরিশাল লঞ্চঘাটে থাকা সোহরাব নামে এক শ্রমিক জানান, লঞ্চ চললে মোগো কদর থাকে। লঞ্চ মালিক ও সুপারভাইজাররা বলে সোহরাব খবর কি? এখন লকডাউনে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কেউ বলে না সোহরাব এই ১০০ টাকা নে। দুই কেজি চাল কিনে খা।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি শেখ আবুল হাশেম জানান, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলে লঞ্চ ও ঘাট শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। এসময় সরকার ও লঞ্চ মালিকরা তেমন কোন সহযোগিতা করে না। সারাবছর লঞ্চ মালিকদের আয় করে দিলেও লকডাউনের সময় মালিকরা শ্রমিকদের পাশে এগিয়ে আসে না। আর যদিও আসে তা আবার নিম্নমানের ত্রাণ সহায়তা নিয়ে। যা একজন শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত নয়৷
তবে তালিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ থেকে কিছু শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তা পেলেও বাকিদের দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে।
তিনি আরো জানান, লকডাউনে শ্রমিকরা মালিকদের লঞ্চ পাহারা দিলেও ঈদের বেতন-বোনাস পাওয়া তো দূরের কথা অনেকের ভাগ্যে জোটেনি সেমাই-চিনি কেনার টাকা।
কিছু কিছু বড়-ছোট লঞ্চ মালিকরা কর্মহীন শ্রমিকদের কোন রকমের বেতন ভাতা পরিশোধ করলেও ৮০ ভাগ লঞ্চ মালিকরা লকডাউনে লোকসানের কথা বলে বেতন ভাতা পরিশোধ করেনি।
যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা ও হতাশ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কর্মহীন প্রায় ৫ হাজার লঞ্চশ্রমিক।
তাই অবিলম্বে যাত্রীবাহী লঞ্চ চালু না করলে নৌযান শ্রমিকরা না খেয়ে মরতে হবে বলেও জানান এই নৌযান শ্রমিক নেতা।