জিকিরটি ছোট, সহজ এবং সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে এর মর্যাদা অনেক বেশি। যে কারণ হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে বার বার ছোট্ট ও সহজ এ জিকিরটি (দোয়া) বেশি বেশি করতে বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ। কী সেই জিকিরের আমল? এর বিনিময়ই বা কী?
জিকির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার ইবাদত। এর ফজিলতও অনেক বেশি। কুরআনুল কারিমের একাধিক আয়াতে জিকিরের নির্দেশ ও জিকিরের মাধ্যমে সফলতা পাওয়ার ঘোষণা এসেছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে নির্দেশ দেন-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا
‘হে ঈমানদাররা! তোমরা অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির কর।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৪১)ছোট হোক আর বড় হোক, বেশি বেশি জিকির করায় রয়েছে মহা সফলতা। একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-- وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ‘তোমরা বেশি বেশি জিকির কর, যাতে সফলকাম হতে পার।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ৪৫)- وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ‘তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ১০)ছোট্ট ও সহজ আমল
জিকেরের মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি জিকির ও আমল রয়েছে; যা সবারই জানা। একটু সদ্বিচ্ছা থাকলেই সহজ ও মূল্যবান এ জিকিরের আমল করা যেতে পারে। রমজান মাসজুড়ে এ ছোট্ট আমলেই মিলবে অনেক ফজিলত ও কল্যাণ। এ জিকিরটি সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হলো-
لا إله إلا اللهউচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’;
আর সর্বোত্তম (তাসবিহ) দোয়া হলো-
اَلْحَمْدُ للهِউচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহ।' (মুসতাদরেকে হাকেম)
সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ এ জিকির সম্পর্কে অন্য এক হাদিসে রয়েছে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আবেদন ও সুন্দর একটি বর্ণনা-
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুসা আলাইহিস সালাম একবার আল্লাহর কাছে আবেদন করলেন-
‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এমন একটি দোয়া শিক্ষা দিন যার মাধ্যমে আমি আপনার জিকির করব এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করব।’
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বললেন- ‘হে মুসা! তুমি বল-
لا إله إلا اللهউচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সব বান্দাই তো এই জিকির করে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বললেন, তুমি বল-
لا إله إلا الله
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।
(এবার) মুসা আলাইহিস সালাম বললেন- لا إله إلا الله
‘হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’
(তারপরও মুসা আলাইহিস সালাম বললেন-)
(হে আল্লাহ!) কিন্তু আমি চাইছি আমাকে বিশেষ একটি দোয়া শিক্ষা দেবেন, যা কেবল আমার জন্য হবে।
(তখন) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বললেন- ‘হে মুসা! আমি ছাড়া ৭ আসমান, ৭ জমিন ও তার মাঝে যা কিছু রয়েছে, সবকিছুই যদি এক পাল্লায় থাকে আর (শুধু) لا إله إلا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) অপর পাল্লায় থাকে; তবে لا إله إلا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর পাল্লা ভারি হবে। সুবহানাল্লাহ! (মুসতাদরাকে হাকেম)
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানের মতো রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাসে ছোট্ট হলেও সহজ এ জিকিরের আমলটি বেশি বেশি করা। অন্য সময়ের তুলনায় এ আমলের বিনিময়ে রোজাদার মুমিন পাবেন ৭০ গুণ বেশি সাওয়াব ও উপকারিতা।
রোজা রেখে দিনভর তাওহিদের কালেমার এ ছোট্ট জিকিরে রোজাদারের জবান ও হৃদয় হোক সিক্ত।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কালেমার এ জিকিরের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে অগণিত সাওয়াব ও উপকারিতা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।