শেষ হয়ে গেছে শেবাচিম হাসপাতালে করোনার ওষুধ!

দেশ জনপদ ডেস্ক | ১৬:৪৪, এপ্রিল ২৪ ২০২১ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥  বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা শামীম তালুকদার সোমবার (১৮ এপ্রিল) তার বড় ভাই লিয়াকত আলীকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করান। বর্তমানে লিয়াকত আলী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। শামীম জানিয়েছেন, ভাইয়ের চিকিৎসায় প্রতি ২৪ ঘন্টায় তিনটি মেরোপেন এবং একটি রেমডেসিভার ইনজেকশন পুশ করতে হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে এই ওষুধ দিচ্ছে না। প্রতিটি ওষুধ ফার্মেসী থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এরমধ্যে রেমডেসিভার ইনজেকশন সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি এন্টিবায়োটিক মেরোপেন ইনজেকশন ১৩শ থেকে দেড় হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। শামীম বলেন, ওষুধের দাম এক এক দোকানে এক এক ভাবে রাখা হচ্ছে। পাঁচ দিন ধরে বিভিন্ন দামে একই ওষুধ কিনতে গিয়ে সর্বস্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের। শামীম তালুকদারের মত আরো দুইজন রোগীর স্বজনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারাও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল থেকে মেরোপেন এবং রেমডেসিভার ইনজেকশন দিচ্ছে না। ফলে ফার্মেসীর ওপর নির্ভর থাকতে হচ্ছে তাদের। কভিড-১৯ পজেটিভ রোগীদের চিকিৎসায় আর্ন্তজাতিকভাবে এন্টিভাইরাল ইনজেকশন রেমডেসিভার ও এন্টিবায়োটিক মেরোপেন ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, দুটি ওষুধের একটি দিনে তিনবার ও আরেকটি একবার রোগীর শরীরে প্রয়োগ করতে হয়। যতদিন পর্যন্ত রোগী সংক্রমনমুক্ত না হন ততদিন এর প্রয়োগ চলে। করোনা প্রতিরোধী এই এন্টিভাইরাল ওষুধ সাধারণত সরকারিভাবে বিনামূল্যে কভিড সংক্রমিতদের দেয়। কিন্তু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরবারহ শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকগুন দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন ফার্মেসীগুলোতে। এ নিয়ে ফার্মেসীতে সিন্ডকেটও গড়ে উঠেছে। ওদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানেন না কবে নাগাদ পর্যাপ্ত বরাদ্দ আসবে। যদিও হাসপাতাল পরিচালক দাবী করেছেন, চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই ওষুধ আসবে বলে আশা তার। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ আগে করোনা চিকিৎসার ওষুধ দুটির সরবারহ ফুরিয়ে যায়। এরপরই তারা বাইরে থেকে কিনতে বলছেন রোগীদের। হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ার খবর চাউড় হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের সামনের ফার্মেসীসহ গোটা নগরীর ফার্মেসীগুলোতে ইচ্ছেমত দাম আদায় করছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য সংরক্ষক জে. খান স্বপন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এ ইউনিটে ১২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যারমধ্যে ৭৭ জন করোনা পজেটিভ। ২৪ ঘন্টায় ৮ জন ভর্তি হয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, সংক্রমনের পর থেকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৩৯৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪৪ জন। এই বিশাল অংকের আক্রান্তের মধ্যে অধিকাংশের চিকিৎসা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে হয়েছে। বিগত এক সপ্তাহ পূর্বে পর্যন্ত করোনা ইউনিটে ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ দুটি বিনামূল্যে সরবারহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে ওষুধ সরবারহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকেই কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালের সামনের ফার্মেসী ঘুরে জানা গেছে, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা লিমিটেড এন্টিভাইরাল এই ইনজেকশন দুটি দোকানে সরবরাহ করছে। কিন্তু হঠাৎ করে সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় তারাও চাহিদামত দিতে পারছে না। যে কারনে অনিচ্ছা সত্যেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে দোকানীদের, বলে দাবী তাদের। নির্ভনযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এন্টিভাইরাল রেমডেসিভার ইনজেকশন ফার্মেসিগুলোতে পাইকারী সর্বনিম্ন ১৮শ থেকে ২২ শ’ টাকায় সরবারহ করছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। তবে ফার্মেসিগুলোতে সেই ইনজেকশন চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এন্টিভাইরাল ইনজেকশন এবং এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দুটি শেষ হয়েছে। তবে ওষুধ সরবরাহের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আমাদের যে পরিমান চাহিদা রয়েছে চাহিদাপত্রে তার থেকেও বেশি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাতে দ্রুত এই ইনজেকশন সরবরাহ দেয়া হয় সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ইনজেকশন শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় আমাকে জানানো হয়েছে। এটি যাতে দ্রুত সরবরাহ করা হয় সে বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। তাছাড়া ফার্মেসিগুলোতে করোনা সংকটকে পুঁজি করে ওষুধের বাড়তি দাম রাখা হলে সে বিষয়টি আমরা তদারকি করে দেখবো। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষনিক তাদেরকে জানানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।