ইলিশসম্পদ উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করলে কঠোর ব্যবস্থা : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
দেশ জনপদ ডেস্ক|২০:০০, এপ্রিল ০৫ ২০২১ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দেশের ইলিশ সম্পদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। অথচ অবৈধভাবে জাটকা আহরণের নেপথ্যে কিছু মানুষ কাজ করছে। অবৈধ মৎস্য আহরণে যে ট্রলারগুলো পাওয়া যায় সেগুলো সাধারণ মৎস্যজীবীদের নয়, কিছু ধনী অসাধু ব্যক্তির। তারা সমাজ ও দেশের শত্রু। পুষ্টিকর মাছ ইলিশ যাতে বৃদ্ধি করা না যায় সেজন্য তারা কাজ করে।
সোমবার জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় বিষাক্ত দ্রব্য নির্গমন, অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে না। এভাবে নানা রকম ক্ষতিকর ভূমিকায় বিভিন্ন সেক্টরের অসাধু ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত রয়েছে। এগুলো বন্ধে ইলিশের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মনিটরিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দেশের মৎস্য সম্পদের যারা শত্রু তাদের ব্যাপারে কোন তদবীর শোনা হবে না। এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি নেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা হবে। অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত অভিযানে অত্যাধুনিক জলযান সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। তবে ইলিশ রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা না গেলেও বিদ্যমান জনবল ও নৌযান দিয়ে সমস্যা মোকাবিলার আপাতত চেষ্টা করতে হবে। এর স্থায়ী সমাধানে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।
করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শরীরের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য শাক-সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধ, ডিম পর্যাপ্ত পরিমাণ খেতে হবে। এ মুহূর্তে করোনার ভয়াবহ বৈশ্বিক সমস্যা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে মোকাবিলা করতে মাছ, মাংস, দুধ ডিমের উৎপাদন ও বিপণন বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে ইলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। ইলিশ উৎপাদনে আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্থানে রয়েছি।
মন্ত্রী আরো জানান, মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সব জায়গায় সরকার কাজ করছে। মৎস্যজীবীদের তালিকা প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এ পেশা ছেড়ে চলে গেছেন তাদের তালিকায় রাখা হবে না, যারা নতুন করে এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন তাদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একসময় ১০ কেজি করে মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ চাল দেয়া হতো, এখন সেটা ৪০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে।
করোনা সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কোভিডকালে মাছ গোশত, দুধ ও ডিমের সরবরাহ জরুরি। এটা বাধাগ্রস্ত হলে উৎপাদক, বিপণনকারী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এজন্য মাছ-গোশত, দুধ ও ডিম উৎপাদন, আহরণ, পরিবহণ, ও ক্রয়-বিক্রয়ে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলে সহযোগিতা করতে হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকারের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, জাটকা সম্পৃক্ত ছয়টি জেলা বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।