বরিশাল
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে চাকরির প্রলোভন, ববির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে ক্যান্টনমেন্টে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিনয় সুর (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভোলা রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত বিনয় সুরের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনো গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কখনো প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), আবার কখনো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ক্যান্টনমেন্টে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন বিনয়। এ প্রলোভনে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নেন তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় আরও চার থেকে পাঁচজনের কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার পুনরায় টাকা নিতে এলে তার কথাবার্তা ও পরিচয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়। পরে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, একদিন পরিচয়ের পর ওই ব্যক্তি নিজেকে প্রশাসনের লোক হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি জানান, আইডি কার্ড বাসায় রেখে এসেছেন। তখনই তাদের সন্দেহ হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে তারা বুঝতে পারেন, ওই ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে এ ধরনের বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর দেখভাল করে। এ জন্য প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন রোববার সকালে জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


