বরিশাল
বরিশালে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি নারী উদ্যোক্তার
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত নিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন এবং বিধি মোতাবেক প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহিনুর বেগম।
এ বিষয়ে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং অনিয়মের সত্যতা উদ্ঘাটন সাপেক্ষে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ এলাকার বাসিন্দা। সার ডিলার নিয়োগের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করে তিনি ৭৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাকা গুদামঘরের বৈধ ভাড়াচুক্তিপত্রসহ আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, গুদামঘরটির এসএ খতিয়ান নম্বর ৫২৫, এসএ দাগ নম্বর ৬২৪ এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গুদামঘর পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই কীর্তনীয়ার গুদামঘর হিসেবে বসতঘর দেখানোর বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি হলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়নি।
শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য মাত্র একটি আবেদন জমা পড়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর দাখিলকৃত আবেদনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিমাই কীর্তনীয়ার নামে সার ডিলারশিপের পাশাপাশি ওএমএস ডিলারশিপ বহাল থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, কথিত অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহিনুর বেগম সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পুনঃযাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে যোগ্য আবেদনকারীকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


