ধর্ম
মহালয়া কাল, বরিশালে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
মহালয়ার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এ উৎসবকে ঘিরে বরিশাল জেলা ও মহানগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও পূজার আয়োজকেরা।
এ বছর বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৫৯০টি এবং মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর ফলপট্টি কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্দির, সদর রোডের শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির ও শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।
উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে নানা আয়োজন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে, প্রতিমা তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন প্রতিমাশিল্পীরা। খরচ বাড়লেও পূজা কমিটির বাজেট সেই তুলনায় না বাড়ায় আগের চেয়ে কম প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কেউ কেউ।
নগরীর শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন ফরিদপুরের প্রতিমাশিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল। এ বছর তিনি মোট ১২টি প্রতিমা তৈরি করছেন। এর মধ্যে বরিশাল নগরীতে পাঁচটি এবং বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় একটি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি।
কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির কাজ কম করছি। সব মিলিয়ে ১২টি প্রতিমা তৈরি করছি। গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পূজা কমিটির বাজেট বাড়েনি। তারপরও বহুকাল ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছি। লাভ-লোকসান যাই হোক, কাজ করে যাচ্ছি।
শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও মনোকামনা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও বলা হয়।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও অকালবোধন, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, মহানগরীতে এ বছর ৪৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
অপর দিকে পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতিও চলছে। বিভিন্ন মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ চরচাকে বলেন , যেখানে যেখানে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে সেখানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরোহিত দের নিয়ে আমরা টিম করেছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার বিভাগে প্রায় ১৬২৮ টি পূজামন্ডপ আছে (কম বেশি হতে পারে) প্রতিটি পূজামন্ডবে যাতে দর্শনার্থীরা আসাযাওয়া করতে পারে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে যাতে সবাই সুন্দর ভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য আমাদের বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যেদিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে সেদিন কোস্ট গার্ডকে বলে রেখেছি সকল ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলার বাল্কহেড যেন বন্ধ রাখা হয়। যাতে করে কোন ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। সেই প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সকল ম্যাজিস্ট্রেড দের ছুটিও বাতিল করেছি। সবাই সকলের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে বলে আশা করছি। আমি মনে করি এবার অত্যন্ত অনন্দ ঘন পরিবেশ বরিশালে পূজা উদযাপন হবে।


