ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রমজানকাঠি গ্রামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. নুরু মিয়া ঝালকাঠি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের গালাগাল, মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অভিযোগকারীর পরিবার একই বাড়িতে বসবাস করে। অভিযুক্তের সন্তানরা বাড়িতে না থাকায় তিনি সেখানে একাই থাকেন। বাড়ির পাশে থাকা একটি তালগাছ থেকে তাল পড়লে শিশুটি মাঝেমধ্যে অভিযুক্তকে ডেকে তাল দেওয়ার কথা বলত।
গত ২৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ওই গাছ থেকে তাল পড়লে শিশুটি অভিযুক্তের ঘরের সামনে গিয়ে তাঁকে ডাক দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় অভিযুক্ত ঘরের দরজা খুলে শিশুটিকে ভেতরে ডাকেন। শিশুটি বারান্দায় প্রবেশ করলে অভিযুক্ত তাকে জড়িয়ে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুমু দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক খাটের ওপর শুইয়ে দেন এবং পোশাক খুলে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অভিযুক্তের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে আসে। পরে সে তার মা ও বড় বোন নুরুন্নাহারের কাছে ঘটনাটি জানায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিশুটি পান খেয়ে পড়ে গিয়ে তাঁর গায়ের ওপর পড়েছিল বলে দাবি করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দুই দিন পর ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তসহ কয়েকজন নুরু মিয়ার বাড়ির সামনে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা মো. নুরু মিয়া বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি প্রথমে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে হুমকি-ধমকির ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি জানেন এবং ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ জানায় অভিযোগটি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



