ঝালকাঠি
ঝালকাঠি সড়ক ভবনের চারপাশে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গুর প্রজননের শঙ্কা
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়—সড়ক ভবনের চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ডেঙ্গু মশার প্রজননের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সারাদেশে যখন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, তখন খোদ একটি সরকারি দপ্তরের চত্বরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ঝালকাঠি সড়ক ভবনের চারপাশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিনের বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এসব স্থানে মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমে থাকা পানিতে বিপুলসংখ্যক মশার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দপ্তরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি চললেও সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার শরীফ খান জানান, “সড়ক ভবনের পাশেই একটি রাস্তার সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তার সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পানি স্বাভাবিকভাবে কোথাও নামতে পারছে না। দ্রুত রাস্তার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হলে পানি নিষ্কাশনের সমস্যার সমাধান হবে এবং এ দুরবস্থার অবসান ঘটবে।”
এদিকে, ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৩১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে হাসপাতালের ভর্তি রোগীর এই হিসাবের বাইরে আউটডোরে চিকিৎসা নেওয়া এবং বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়া আরও শত শত রোগী রয়েছেন। তাদের অনেকেই বাসাবাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা রোগীদের হিসাব যুক্ত হলে ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দপ্তরের চত্বরে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু জনসচেতনতা বা মশক নিধন অভিযান চালালেই হবে না; সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ চত্বরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মশার প্রজননমুক্ত রাখতে হবে। সড়ক ভবনের চারপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, মশার লার্ভা ধ্বংস এবং স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।



