বরিশাল
লোডশেডিংয়ে দিশেহারা বরিশালের মানুষ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
লোডশেডিংয়ে দিশেহারা হয়ে উঠেছে বরিশালের মানুষ। দিন-রাত ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নগরবাসীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে। এদিকে লোডশেডিং বন্ধ করে জনজীবন রক্ষা করার দাবিতে মঙ্গলবার নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ হচ্ছে তাই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া যাচ্ছে না। তার আওতায় চাহিদা ৬২ মেগাওয়াট কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ কম থাকায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তার আওতাভুক্ত এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম পাওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এর কারণ জেনারেশনে ঘাটতি রয়েছে। কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীতে লোডশেডিং হচ্ছে প্রতি ঘণ্টা পরপর। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটছে। তাতে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। নগরের সাধারণ মানুষ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গভীর রাতে ঘরের বাইরে বের হয়ে আসছেন। আবার দিনে অফিস পাড়ায় এবং রাতে বাণিজ্যিক এলাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যবসায় ধস নামছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার লোডশেডিং বন্ধ করে জনজীবন রক্ষা করার দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে এ মিছিল পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ জেলা সমন্বয়ক ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। বরিশালে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এই গরমে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। প্রাত্যহিক জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।



