ঝালকাঠি
ঝালকাঠির মেঘনা ডিপোতে গ্যাস ও জ্বালানি বিতরণে অনিয়ম, তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝালকাঠির মেঘনা এলপিজি ডিপোতে গ্যাস সিলিন্ডার বরাদ্দ ও বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ডিলার ও ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের গ্যাসের একটি অংশ সাধারণ ক্রেতাদের কাছে না পৌঁছে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতেই গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট রয়েছে। অনেক ডিলারের দাবি, প্রতি মাসে সরকারি বরাদ্দের তুলনায় তারা অনেক কম সিলিন্ডার পান। এ সুযোগে একটি সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেঘনা ডিপোর এক মাস্টাররোল কর্মচারী শিবু চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের হিসাব ও সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর মাধ্যমে ডিপোর বাইরে গ্যাস ও সিলিন্ডার বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। যদিও শিবু চন্দ্র শীল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রতি মাসে ডিপোতে ৪৭৬টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার আসে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ পাঠানোর পর অবশিষ্ট সিলিন্ডারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কাগজে-কলমে ডিলারদের নামে বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক ডিলার সেই গ্যাস পান না।
এদিকে ডিপো সূত্রের তথ্য এবং ডিপো সুপারের দেওয়া তথ্যের মধ্যেও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একদিকে মাসিক বরাদ্দের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও অন্যদিকে জুন ও জুলাই মাসে ভিন্ন সংখ্যার বরাদ্দের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত বরাদ্দ ও বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ডিপো থেকে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার ও জ্বালানি পাচারের ঘটনায় এক শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে একই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়নি। এছাড়া বাতিল ঘোষিত কিছু সিলিন্ডার পুনরায় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় ভোক্তা ও ডিলাররা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠি থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা ডিপোর মাস্টাররোল কর্মচারী শিবু চন্দ্র শীল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে স্বরূপকাঠিতে তাঁর ভগ্নিপতির দোকানে অন্য একজনের লাইসেন্সে জ্বালানি বিক্রি হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।
মেঘনা ডিপোর সুপার শাহীন আলম বলেন, প্রতি মাসে নির্ধারিত সংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার ডিপোতে আসে এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বরাদ্দ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সিলিন্ডার অনুমোদিত ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কোনো অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিপো থেকে সরাসরি সরকারি সিলিন্ডার বিক্রি বৈধ নয়। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ডিলার ও ভোক্তারা গ্যাস বরাদ্দ, বিতরণ এবং হিসাব-নিকাশের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



