বরিশাল
বরিশালে কুপিয়ে কলেজছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন, আসামীদের বাঁচাতে এবার ধর্ষণচেষ্টা মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড নলিদাসের পোল এলাকায় প্রকাশ্যে কলেজছাত্র দ্বীন ইসলাম খান মুন্নাকে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মিথ্যা অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত ১৬ জুন নবগ্রাম রোড খান বাড়ীর বাসিন্দা কালাম খানের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন (৫৪) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় যাদের কে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন : একই বাড়ীর বাসিন্দা মজিবুর রহমান রহমান ওরফে সুরুজ খান, রফিক খান, মারুফ খান, মন্নাফ খান।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন- গত ৪ জুন রাত আনুমানিক ৮টায় বাদী তার নিজঘরে তার পুত্রবধুকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি বারান্দায় বসে মোবাইল দেখছিলেন আর তার পুত্রবধু ঘরের দোতালায় তার সন্তান নিয়ে শোয়া অবস্থায় ছিলেন। আর ঘরের দরজা চাপানো ছিলো। এই সুযোগে ১নম্বর আসামি সুরুজ খান বসতঘরে ঢুকে বাদীকে ঝাপটে ধরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া সহ শ্লীলতাহানী করে। এসময় বাদীর পুত্রবধু দৌড়ে এসে ডাকচিৎকাল দিলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীকে উদ্ধার করে শের ই বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- বাদী মামলায় যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। প্রকৃত ঘটনা হলো কলেজছাত্র মুন্নাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে ওই মামলার ২ নম্বর আসামী রানা খান। তার মা হলেন ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী নিলুফা বেগম। মূলত ছেলে কে মারামারির মামলা থেকে বাঁচাতে এ ধরণের বানোয়াট কাহিনী রচনা করে আদালতে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেছে সে। মামলায় বাদী নিজের বয়স উল্লেখ করেছেন ৪৫ বছর। অথচ তার ভোটার আইডিতে জন্ম সাল ১৯৭২। সে অনুযায়ী তার বয়স ৫৪ বছর। অর্থ্যাৎ শুরুতেই যে তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মামলাটি করেছেন সেটা পানির মত পরিষ্কার। তাছাড়া ঘটনার দিন আসামিরা কেউ বাড়ীতেই ছিলেন না। বিবাদীদের ভাষ্য-মূলত তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরণের নাটক সাজানো হয়েছে।
বিবাদী সুরুজ খান অভিযোগ করে বলেন-নিলুফা বেগম আমার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী। তার সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। তার ছেলে সহ বেশ কয়েকজন মিলে মুন্নাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মুন্না এখনো ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি। তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলার তিন নম্বর আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু অন্য আসামিরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। মামলা থেকে বাঁচাতে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। ঘটনার দিন আমরা কেউ বাড়ীতে ছিলাম না। ত্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেও তেমন কোন আলামত পায়নি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে আশঙ্কা জনক অবস্থায় তারা নিলুফা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। কিন্তু নিলুফা বেগমকে পরেদিনই চিকিৎসকগণ সুস্থ্য বলে হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বাড়ীতে এত লোক থাকতেও তাদের চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি।
উল্লেখ্য, নির্মাণাধীন একটি বাড়ির জন্য আনা বালু রাখা নিয়ে গত ৩০ মে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টির মীমাংসা হলেও ৩১ মে সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুন্নার উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে।
আহত মুন্নার বাবা লিটন খান জানান, আগের রাতেই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে নলিদাস পোল এলাকায় কাজে যাওয়ার পথে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। হামলায় মুন্নার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
বর্তমানে মুন্না ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী।



