বরিশাল
বাসায় মাদক রেখে পালিয়ে গেলেন গাঁজা রফিক!, স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রেপ্তার ৫
বরিশাল শহরের আলেকান্দা রিফিউজি কলোনীর আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক প্যাদাকে অল্পের জন্য ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার রাতে কোতয়ালি পুলিশের একটি টিম কলোনী বাসাটিতে হানা দেওয়ার আগাম খবর পেয়ে শীর্ষস্থানীয় এই মাদকবিক্রেতা পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী আনু বেগম (৩৮) এবং ছেলে সন্তান রাতুল ইসলামসহ (২৪) অন্তত ৫জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এসময় বাসাটি থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ জানায়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়ে রোববার রাতে ১৩ নং ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনীতে রফিকের মালিকানাধীন স্নেহা ভবনে এসআই গোলাম মো. নাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সেখানে হানা দেয়। কিন্তু অভিযানের খবর কোনো মাধ্যম আগেই অবহিত হয়ে রফিক বাসাটি থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৬২ পিস ইয়াবা, ৩৯ পুরিয়া গাঁজা, দুটি মোটরসাইকেলসহ মাদক বিক্রির ১৭ হাজার ৬৯০ টাকা উদ্ধার করে। সেই সাথে রফিকের স্ত্রী আনু বেগম, ছেলে রাতুল ইসলাম এবং একই ওয়ার্ডের কামাল হাওলাদারের ছেলে উজ্জল হাওলাদার (২৪), পার্শ্ববর্তী ১২ নং ওয়ার্ডের আমির আলীর ছেলে বাপ্পি (২৫) এবং বাকেরগঞ্জের খোকন হাওলাদারের ছেলে ইমন হাওলাদারকে (১৯) আটক করা হয়।
রিফিউজি কলোনীর স্নেহা ভবন নামক বাসাটিতে নিয়মিত মাদকের হাট বসতে এবং সেখানে শহরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা-পাইকারী বিক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালে মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, সেই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত ১০টার দিকে গাঁজা রফিকের বাসাটিতে হানা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো মাধ্যম খবর পেয়ে রফিক আগেই স্থান ত্যাগ করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শহরের চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রফিকের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনখানেক মাদকের মামলা বিচারাধীন আছে। তাকে বিভিন্ন সময় মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হলেও কদিন বাদে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, তৎকালীন মাদকবিক্রেতা রফিকুল ইসলামকে ধরতে গিয়ে কোতয়ালি পুলিশ হামলার শিকার হয়। অবশ্য সেই ঘটনার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তিনি গ্রেপ্তারও হন। কিন্তু তাকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি, কিছুদিন পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক বাণিজ্যে যুক্ত হন।
মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে রফিক বেশকিছু সতর্ক পদক্ষেপ বা পন্থা অবলম্বন করে থাকেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে এসআই পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, কয়েক বছর ধরে রফিক নিজের হাতে মাদক বিক্রি করছেন না, কৌশল হিসেবে স্ত্রী-সন্তানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মাদক বিক্রির সময় তিনি বাসাটির আশেপাশে থাকেন এবং বাইরের সামগ্রিক বিষয়াদী তদারকি করে। কখনও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলে তিনি সটকে পড়েন এবং স্ত্রী-সন্ত্রানদের ফোন করে সতর্ক থাকার দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
তবে গাঁজা রফিকের এই কৌশল এসআই নাসিমের দূরদর্শিতার কাছে ধোপে টেকেনি। তিনি কোনো মতে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেও তার স্ত্রী-সন্তানকে ঠিকই আইনের আওতায় নিয়ে আসলেন মাঠপুলিশ কর্মকর্তা।
অভিযান পরিচালনাকারী কোতয়ালি মডেল থানার এসআই গোলাম মো. নাসিম জানান, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে রফিক ওরফে গাঁজা রফিক, তার স্ত্রী-সন্তানসহ মোট ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ পলাতক রফিককে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ মাদকের ব্যবসায় করে গত ১০/১৫ বছরে রফিকুল ইসলাম শহরের একাধিক স্থানে জমিসহ বাড়ি ক্রয় করা এবং অর্থবিত্তে ধনকুবের বনে গেছেন। রোববার রাতে পুলিশ রিফিউজি কলোনীর স্নেহা ভবন নামক যে বাসটিতে অভিযান চালিয়েছে, সেটিও রফিকের মালিকানাধীন। এছাড়া শহরের ১২/১৩ নং ওয়ার্ডে তিনি একাধিক জমির মালিক ও সিঅ্যান্ডবি কাজীপাড়া রোডেও একটি বিলাসবহুল ভবন কিনেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।


