বরিশাল
শেবাচিমে দালালমুক্ত করতে র্যাব ৮ এর অভিযান আটক ৮নারী দালাল
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই সেক্টরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করাসহ সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে সরকারি হাসপাতালে দালালদের অবাধ বিচরণ রুখে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তোড়জোড় চালানো হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) বরিশালের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রাক্কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম রোধে প্রশাসন, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরিশাল সদর ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার চোখে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে দালালদের উপস্থিতি তিনি আঁচ করতে পেরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেন।
সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশনা পেয়ে বরিশাল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বরিশাল সদর ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়।
পূর্বপ্রস্তুতির আলোকে মঙ্গলবার শেবাচিম হাসপাতালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি টিম অভিযান চালিয়ে রোগী দালাল নারী-পুরুষ অন্তত ৮ জনকে আটক করে। অবশ্য অভিযানের আভাস পেয়ে বেশ কয়েকজন আগেই হাসপাতাল এলাকা থেকে সরে পড়েন বলে জানা গেছে।
শহরবাসী বলছেন, বরিশালের স্বাস্থ্যখাতের এই অনিয়ম রোধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ দাবি জানিয়ে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও সরকারের তরফ থেকে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী শেবাচিম হাসপাতালে পরিচালক পদে সেনাবাহিনীর শীর্ষ একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়।
সেনা কর্মকর্তা যোগদানের পর মানুষ কিছুটা আশার আলো দেখেছিল। ধারণা করা হয়েছিল, বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালে রোগী ভোগান্তি কমবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি সোমবার নিজ চোখে দেখে ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সোমবার প্রথমে তিনি বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং একজন কর্মচারী অনুপস্থিত থাকায় তাকে বরখাস্ত করেন। এরপর তিনি শেবাচিম হাসপাতাল পরিদর্শনে যান এবং সেখানেও একই চিত্র দেখতে পান। পাশাপাশি রোগী দালালদের আনাগোনার বিষয়েও তিনি অবহিত হন।
এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দুটি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি স্বীকার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শহরের দুটি সরকারি হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল থেকে দালালমুক্ত অভিযান শুরু হয়েছে। র্যাব বিকেলে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮ জন নারী-পুরুষ রোগী দালালকে আটক করেছে। পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেছে।
এই ধরনের অভিযান এখন থেকে নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখানে সেবার মান দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে পুলিশ-প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে।
সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বরিশাল জেলা প্রশাসনও যুক্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন জানান, শেবাচিমে দালাল ধরতে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োজিত রয়েছেন। সদর ও শেবাচিম—এই দুটি হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।



