বরিশাল
নগরবাসীর জন্য প্রশাসকের ঈদ উপহার
বরিশালের নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকে বসছে আলোক-শব্দের ফোয়ারা
বরিশাল মহানগরবাসীর জন্য আসন্ন ঈদ উপহার হিসেবে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকে আলো ও শব্দের সমন্বয়ে এ ফোয়ারাটি আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে নগর প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ইতোপূর্বে নগরীর কেন্দ্রস্থলে বিবির পুকুরে অনুরূপ একটি ফোয়ারা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নবনিযুক্ত প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহণের পরেই নগরী থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের অংশ হিসেবে বেল পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ও নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের তিন পাড় থেকে সব অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণের উদ্যোগ নেন।
পুরো বিষয়টিকে নগরবাসী অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। নগরীর বেল পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের মাঝে মিউজিক্যাল ফোয়ারা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ টাকার বিশেষ তহবিলে এ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে
বাজনার তালে এ ফোয়ারা থেকে বিভিন্ন রঙের আলোকিত পানি শূন্যে উত্তোলন করা হবে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফোয়ারাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে। বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা এবং বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন এ ফোয়ারাটি নগরবাসী ছাড়াও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রমুখী পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নগর প্রশাসক শিরিন। এতে নগরীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে বলে নগর প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে এ ফোয়ারা চালুর পাশাপাশি লেকটির চার পাশের সড়ক এবং ওয়াকওয়ে পরিপূর্ণভাবে অবৈধ ও চাঁদাবাজদের দোকানপাট মুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নগর প্রশাসন এ লেকটির চারধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে একটি সুষ্ঠু ও জনবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনলেও প্রতিদিন বিকেল থেকে অনেক রাত অবধি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে বেশ কিছু অবৈধ দোকান পুনরায় বসছে। একই সাথে লেকটির উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে কোনো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদই করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার নগর ভবনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও রহস্যজনক কারণে সব কিছু স্থবির হয়ে আছে। অপরদিকে বেল পার্কের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরে সেখানে একটি শ্রান্তি বিনোদনপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এলেও প্রায় প্রতি রাতেই পার্কটির অভ্যন্তরে একাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান বসছে। অথচ এ পার্কে সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে একাধিক কর্মী কাজ করার কথা। কিন্তু ভ্রমণকারীদের অভিযোগ এখানে কখনোই নগর ভবনের কোনো কর্মীসহ দায়িত্বশীলদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ‘বিষয়টি নিয়ে খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবেন’ বলে জানান।



