বরিশাল
ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি পেলেন রাফি
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. ইত্তেসাফ-আর-রাফি। শুক্রবার (১ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনের অভ্যন্তরে রাফির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, নেতৃত্বগুণ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ধারাবাহিক যোগাযোগের কারণে এই পদায়নকে নতুন কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগঠনের মাঠপর্যায়ে তার উপস্থিতি এবং দায়িত্বশীল আচরণের কারণে তিনি আগেই সংগঠনের ভেতরে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে তার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা লক্ষ্য করা গেছে। নতুন কমিটির কাঠামোয় এ পদায়নকে শুধু একটি সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবেই নয়, বরং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
জানা যায়, রাফি বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের বড় ছেলে। তার রাজনৈতিক যাত্রা মূলত পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি দলীয় আদর্শ, সংগঠনচর্চা এবং রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে পরিচিত হন। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ধীরে ধীরে ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনের ভেতরে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে তিনি সংগঠনের কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাফি রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত আন্দোলন ও কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষ করে গত ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচির সময় তিনি এবং তার পরিবার রাজনৈতিকভাবে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এই সময় তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণকে সংগঠনের অনেকেই তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে মো. ইত্তেসাফ-আর-রাফি বলেন, আমি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই দায়িত্ব আমার জন্য শুধু একটি পদ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি বড় সুযোগ বলে আমি মনে করি। ছোটবেলা থেকেই আমি রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছি। আমার পরিবার সবসময়ই দলীয় আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত থেকেছে। সেই পরিবেশ থেকেই আমার মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই আমি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার লক্ষ্য থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া। সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখা। আমি চাই, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠুক।



