বরিশাল
দক্ষিণাঞ্চলে রবি মৌসুমে কৃষি অর্থনীতিতে দেড় লাখ কোটি টাকার বিপ্লব
সমাপ্তপ্রায় রবি মৌসুমে তরমুজ, শীতকালীন সবজি, বোরো ধান, তৈলবীজ ও ডাল উৎপাদন করে বরিশাল অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার জোগান এসেছে। খুচরা পর্যায়ে এই বাজারমূল্য আড়াই লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চল প্রধান ড. নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, সারা দেশের ৭০ শতাংশ তরমুজ এখন এই অঞ্চলে উৎপাদিত হচ্ছে।
এবার রেকর্ড ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টন তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে, যার মাঠ পর্যায়ের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ৭৫ হাজার হেক্টরে উৎপাদিত ১৫ লাখ টন সবজির বাজারমূল্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী ১৫ মে থেকে ১৮ লাখ টন বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ধান কাটা শুরু হবে। উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে পণ্য কয়েক হাত বদল হওয়ায় দাম ৪-৫ গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া ডিজেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত, যা কৃষকদের নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। কৃষিবিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তরমুজ উৎপাদিত হলেও তা প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য সামগ্রী তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই। বরিশালে একটি ‘কৃষি ও মৎস্য ভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা’ (ঊচত) প্রতিষ্ঠা করা গেলে ইলিশের পাশাপাশি তরমুজ, পেয়ারা ও আমড়া বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। এতে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।



