পটুয়াখালী
বাউফলে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
পটুয়াখালীর বাউফলে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে রেখে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল এসএসসি,দাখিল ও সমমান পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বাউফল উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছে। এখন আবার কেন্দ্র ফি নামে প্রবেশপত্র আটকে রেখে আরেক দফা অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালিশুরী এসএ ইনষ্টিটিউশন, নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাছিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর ছোট ডালিমা আবদুস ছালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর নিশিকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়,সাবুপুরা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরআলমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ফরম পূরণের সময় কেন্দ্র ফিসহ নানান কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এখন আবার কেন্দ্রফির কথা বলে প্রত্যেক শিক্ষাথীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষার হলে আতংক সৃষ্টি করা সহ শিক্ষার্থীদের নানান ভয় দেখানো হচ্ছে।
একাধিক অভিভাবক বলেন, অর্থের লোভে শিক্ষকরা সম্মান আর মর্যাদা হারাচ্ছেন। একসময় বিনা বেতনে শিক্ষকতা পেশা বেছে নিতেন শিক্ষানুরাগীরা। নিরক্ষতা দূর করে স্বেচ্ছায় মানুষকে শিক্ষিত করতেন তারা। তখন শিক্ষকদের মর্যাদা ছিল অনেক। আর এখন শিক্ষকদের মাথায় কোচিং কিংবা প্রাইভেট বাণিজ্য এবং পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ভূত চেপে বসেছে। গুটি কয়েক শিক্ষকের অর্থ লিপ্সার কারণে গোটা শিক্ষক সমাজের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে কালিশুরী এসএ ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, আমরা কেন্দ্র ফি সহ বিগত দিনের পাওনা আদায় করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেএম নাসির উদ্দিন বলেন, আমিতো এখন পর্যন্ত প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু করিনি।
নাজিরপুর ছোট ডালিমা আবদুস ছালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. মরিয়ম বেগম টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বোর্ডের নির্দেশ আছে কেন্দ্র ফি নেওয়ার। আমরা কেন্দ্র ফি বাবদ টাকা আদায় করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসাইন খান বলেন, এই মুহুর্তে প্রবেশপত্র আটকে রেখে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ফি পরিশোধ করে ফরম পূরণ করেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান টাকা আদায় করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



