বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক নির্মাণে চাঁদা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক নির্মাণকাজে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকর্মীর বাধার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এক ঠিকাদার। সোমবার বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ঠিকাদার এ.বি.এম. আওলাদ হোসেন মনু (৫৮)।
লিখিত বক্তব্যে আওলাদ হোসেন মনু বলেন, তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার এবং নগর বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলমান প্রায় ৫৮ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণ কাজে চাঁদা না দেওয়ায় গত ১ মার্চ থেকে কাজ বন্ধ করে দেয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।
তার অভিযোগ, এ ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ হোসেন শান্ত, কর্মী আজমাইন সাকিব এবং সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ। তারা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজের সামগ্রী পরীক্ষা করে মানসম্মত বলে সার্টিফিকেট দিয়েছে।
ঠিকাদার জানান, গত রোববার বিকেলে কাজ শুরুর বিষয়ে জানতে তিনি উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বের হয়ে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে প্রধান ফটক দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে তিনি উপাচার্যের কক্ষের পাশের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, “আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জীবনের এই বয়সে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সরকারি কাজ করছি। চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
তবে এর আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব দাবি করেন, সড়ক নির্মাণের ঢালাই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে তারা কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন এবং নিম্নমানের পাথর পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তৌফিক আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক নির্মাণ কাজ আলোচনা করে শুরু করার চেষ্টা চলছে। একটি ভিজিলেন্স টিম নির্মাণ সামগ্রী পরীক্ষা করে ভালো মান পেয়েছে। কাজ বন্ধ রাখার কোনো কারণ নেই।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ধারা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন বন্দর থানায় সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্তসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


