বরিশাল
দুই যুগের অপেক্ষার অবসান, বরিশাল-৩ আসনে ফিরল বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের রাজনৈতিক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসন পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ধানের শীষ প্রতীকে ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট প্রার্থী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। ফলে প্রায় ১৯ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে বড় জয় নিশ্চিত করেন বিএনপি প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন স্বাক্ষরিত বার্তায় এই ফলাফল জানানো হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭১৬ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পান ১৬ হাজার ৩২৫ ভোট।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু লাঙল প্রতীকে পান ১৪ হাজার ১৮৪ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন ট্রাক প্রতীকে পান ৮৬০ ভোট। বাসদের প্রার্থী আজমুল হাসান জিহাদ মই প্রতীকে পান ২১৪ ভোট।
এ ছাড়া এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩০৫টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৪০ হাজার ৬৩৬টি।
মুলাদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী কামাল হোসেন জানান, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মঙ্গু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে দুইবার ও ২০০১ সালে একবার, টানা চারবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু জয়ী হলে আসন হারায় বিএনপি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি এবং ২০১৮ সালেও এ আসনে জয় পায়নি। অবশেষে প্রায় ২৫ বছর পর পুনরায় আসনটি নিজেদের দখলে নিল দলটি।
বিজয় ঘোষণার পর অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বাবুগঞ্জ-মুলাদীর প্রিয় জনগণের ভালোবাসা ও আস্থায় আমি নির্বাচিত হয়েছি। আপনাদের এই অকুণ্ঠ সমর্থন আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ— সততা, নিষ্ঠা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে সব সময় আপনাদের পাশে থাকব। বাবুগঞ্জ–মুলাদীর উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’


