ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে জুলাই হত্যা মামলার আসামি আ.লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী
রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত এক হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। জানা গেছে, পারস্পরিক যোগসাজশে হত্যা ও হত্যায় সহায়তার অভিযোগে জুলাই আন্দোলন ঘিরে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলাটি করেন সবুজবাগ থানার মীম আক্তার আখি (২৮)। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম এ মামলার ২২৩ নম্বর আসামি।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. খালেদ হাসান মামলাটি রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে এফআইআর হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে হত্যা মামলার আসামি হয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং হলফনামায় মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজ্জাক সেলিম বলেন, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মামলার তথ্য আমার জানা ছিল না। যে কারণে হলফনামা প্রদানের সময় পর্যন্ত এই মামলার বিষয় কোনো তথ্য উল্লেখের প্রশ্ন ওঠেনি। এখন যেহেতু একটি মামলা বিষয় আলোচনা হচ্ছে তাই আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য খোঁজ খবর নিচ্ছি।
ঝালকাঠি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, মামলার বিষয়টি আমরা গণমাধ্যম থেকেই শুনেছি। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ২০০৯–২০১৩ সাল পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তা ফিরে পান।
সবশেষ ২০২৪ সালে সহ-সভাপতি পদে থেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে রাজ্জাক সেলিমের সমর্থকদের বিরোধে মামলার পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।


