বরিশাল
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ইনকোর্স পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত শতাধিক শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্লাসে উপস্থিতির হার কম থাকার অজুহাতে কলেজ প্রশাসন তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ইনকোর্স পরীক্ষা শুরু হলেও সমাজকর্ম বিভাগের ওই শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি।
আজ ১৮ই জানুয়ারি রবিবার সকালে কলেজের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও সমাজকর্ম বিভাগের চিত্র ছিল ভিন্ন। শুধুমাত্র ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকার কারণে এই বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে দূরে রাখা হয়। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকলেও প্রতিদিনের সব কয়টি পিরিয়ডে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি।
তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪-৫টি ক্লাস হলেও যাতায়াত ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে দুই-একটি ক্লাস মিস হয়েছে। বিভাগীয় উপস্থিতির খাতায় কেবল পূর্ণ উপস্থিতি (সব ক্লাস করা) গণ্য করা হয়েছে। যারা গড়ে প্রতিদিন উপস্থিত ছিলেন, তাদেরও অনুপস্থিত দেখিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, আমরা দূর-দূরান্ত থেকে কলেজে আসি। হঠাৎ করে এমন কঠোর সিদ্ধান্তে আমাদের একটি শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অভিভাবকরাও। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সন্তানরা নিয়মিত কলেজে যায়। দুই-একটি ক্লাস মিস হওয়ার জন্য পুরো একটি বিষয়ের ইনকোর্স পরীক্ষা দিতে না দেওয়া অমানবিক। এতে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে সমাজকর্ম বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী একসঙ্গে বাদ পড়ার বিষয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নমনীয় সংকেত পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারাবেন। এর ফলে শতাধিক শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আগে আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।



