বরিশাল
অফিস ফাঁকি দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম!
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত অফিস সকাল নয়টা হতে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত হলেও সরজমিনে একাধিকবার তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায় যথাসময়ে তিনি অনুপস্থিত।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি তার ইচ্ছামত অফিস করেন। কখনো বারোটায়, কখনো একটায়, কখনো দুইটায় অফিসে এসে শুধু উপস্থিত হয়ে তিনি চলে যান। তার অফিস টাইমের বেশিভাগ সময় তার কক্ষটি আটকানো থাকে। ভিতরে শুধু লাইট-ফ্যান চালু থাকে। শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অফিস সহকারীরা সবকিছু দেখভাল করেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে রীতিমত প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে এই দপ্তরের কাজ হলো- ১. শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ও ফিটনেস কার্যক্রম পরিচালনা। ২. অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন। ৩. বিভিন্ন খেলায় বিশ্ববিদ্যালয় দল গঠন ও প্রশিক্ষণ। ৪. খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম ও ক্রীড়া অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ। ৫. ক্রীড়া সামগ্রী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা। ৬. খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি। ৭. জাতীয় দিবস ও বিশেষ উপলক্ষে ক্রীড়া আয়োজন বাস্তবায়ন ইত্যাদি। কিন্তু এসব না করে সেলিনা বেগম তার সময় মতো এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ক্রীড়া বিষয়ক যেকোন প্রতিযোগিতা হলে শুধু সিল-স্বাক্ষরে নিজের দায়িত্ব শেষ করে দেন। তার এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠলে তা ধামাচাপা দেয়া হয়। বর্তমানে তার এমন স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস. এম ওয়াহিদুর রহমান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড তা নিতান্তই দুঃখজনক। তার এমন স্বেচ্ছাচারিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে। এই বিষয়ে বিগত দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও বরাবরই তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই বিষয়ে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বাকি ফাঁকিবাজ কর্মকর্তারাও উৎসাহিত হবে। তিনি সহ বাকি কর্মকর্তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের যে বেতন নিচ্ছেন, তা হালালভাবে নিচ্ছেন কিনা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। এই ফাঁকিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবে, এমনটাই আশাবাদী।’
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য তাকে এখানে রাখা হয়েছে। সেখানে সেবা না দিয়ে এমন ফাঁকিবাজি হতাশার। বিগত দিন থেকে শারীরিক শিক্ষা অফিস কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে উদাসীন। আর এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নিয়ে যদি দুর্বলতা প্রকাশ করে। সেই দুর্বলতা তার প্রতি কিসের সেটিও সকলের সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উন্নতির জন্য শারীরিক শিক্ষা অফিস কিছুই করছে না। শুধু বসে বসে বেতন-ভাতা নিচ্ছে। এমন দাবি করে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ মিত্র বলেন, আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য শারীরিক শিক্ষা অফিসের অনেক কর্তব্য রয়েছে। ব্যায়াম শেখানো থেকে শুরু করে ধ্যান ইত্যাদি শেখানো তাদের কর্তব্য। কিন্তু বরাবর তারা নীরব।
এই কর্মকর্তার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে বিগত দিনে টুর্নামেন্টের অনুমতি গ্রহণ করতে গিয়ে তাকে অফিসে পাইনি। অফিস সহকারীকে বলার পরে অফিস সহকারী তাকে ফোন দিয়ে বলেছেন। এরপর তিনি এসেছেন। অথচ তার দায়িত্ব ছিল অফিসে থাকা। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছুই করছে না।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক মোঃ আতিকুল্লাহ ফরাজী বলেন, এমন কাজ অন্য কর্মকর্তারাও করেন। ঠিকমত অফিস করেন না। তিনিও হয়তবা একই পথে হেঁটেছেন। আমি নতুন জয়েন করেছি। আমি আসার পর তার কাছ থেকে যাবতীয় সকল সাহায্য পেয়েছি। তবুও এই বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করবো।,
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সেলিনা বেগম বলেন, এটি দেখার দায়িত্ব আমার কর্তৃপক্ষের আপনার না। এসব ধান্দাবাজি বাদ দেন। আশাকরি, ভবিষ্যৎতে ভালো হবেন।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



