পটুয়াখালী
পটুয়াখালীতে অবৈধ ইটভাটাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, দুই ভাটা বন্ধ
পটুয়াখালীতে পরিবেশ দূষণ রোধ ও জনস্বার্থ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় গলাচিপা উপজেলার গোলখালী এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত দুইটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে কার্যক্রম বন্ধসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে গোলখালী এলাকায় অবস্থিত অবৈধ হাওলাদার ব্রিকস ও ভাই ভাই ব্রিকসের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-হাসীব মো. তাসফিকুল ইসলাম। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৫ লঙ্ঘনের দায়ে আইনটির ১৫ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে হাওলাদার ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কাঁচা ইট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, ড্রাম চিমনি ভেঙে ফেলা হয় এবং ইটভাটার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই অপরাধে ভাই ভাই ব্রিকসকেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও পুলিশ প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ‘পটুয়াখালীতে কাঠ পুড়িয়ে ইট উৎপাদন, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনজীবন’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেলার ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। ওই সংবাদটি সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, প্রকাশিত সংবাদের ধারাবাহিকতায় জেলার পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধসহ পরিবেশবিরোধী সকল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম আগামীতেও চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



