বরিশাল
বরিশালে প্রস্তুত ১০৭১ আশ্রয় কেন্দ্র
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর ভয়াবহতা থেকে উপকূলের মানুষের জানমাল রক্ষায় সকল প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে বরিশাল জেলায় ৩১৬টি সাইক্লোন শেল্টার এবং আরও ৭৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
একইসাথে ঘূর্ণিঝড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের সাথে জুম কনফারেন্স করেছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগেই সকল এলাকায় সতর্ককতামূলক মাইকিং করার নির্দেশনা দেয়া হয় ওই সভায়।
বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩১৬টি বিশেষায়িত সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবন রয়েছে জেলায় ৭’শ ৫৫টি। সাইক্লোন শেল্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৪২ হাজার মানুষ এবং প্রায় ৫০ হাজার গবাদী পশু নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারবে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত হানার খবরে ওইসব সাইক্লোন শেল্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাথরুম-টয়লেট ব্যবহার উপযোগী এবং সুপেয় পানি-বিদ্যুতের ব্যবস্থা, বিদ্যুত না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া শুকনা খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেটেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানলে স্থানীয় জনগনের মাঝে বিতরনের জন্য জেলায় ৮৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লাখ টাকা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাছাড়া সরকারের যে কোন নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল সোমবার জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি সভা করেন। সভায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনাগুলো কর্মকর্তাদের অবহিত করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দিয়ে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানান, সাইক্লোন শেল্টারসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবাদী পশুসহ সকলকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা, বেরীবাঁধ নজরদারী, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) মাইকিং, সড়ক ও জনপথ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে যে কোন পরিস্থিতি পরবর্তী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রস্তুত থাকতেও নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার।