বরগুনা
মনে অইছে সিডর আবার আইছে !
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘যহন গাছ পড়ছে, তখন থেকে আতঙ্কে আছিলাম। ভয়ে মোরা কেউ ঘুমাইতে পারি নাই। হারারাইত জাগনা আছিলাম। মনে অইছে সিডর আবার আইছে। মোগো আল্লাহ বাঁচাইছে।’ হতাশা ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এসব কথাগুলো বলছিলো বেবি আক্তার। বেতাগী পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মটরবাইক চালক মিল্টন মোল্লার স্ত্রী বেবি আক্তার। ঘূর্ণিঝড় বাতাসের তীব্রতা যখন বেড়ে যায় তখন বেবি, তার স্বামী মিল্টন মোল্লা, দুই ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবু সালেহ ঘরে বিছানার ওপর বসা ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ করে একই সাথে চাম্বল, মেহগনি ও সুপারি গাছসহ ১০ টি গাছ বিধ্বস্ত হয়। তবে পরিবারের কেউ আহত হয়নি।
উপকূলীয় থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। সড়ক, গ্রামীন রাস্তাঘাটে ব্যাপকহারে গাছ উপড়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে গাছ কেটে স্বাভাবিক করা হয়েছে। গ্রামের কিছু রাস্তায় যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে গ্রামের কাঁচা ঘর বির্ধস্ত হয়েছে। পৌরশহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর মো. শাহজাহান হাওলাদার বলেন,‘ গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ঘর বিধস্ত হয়েছে। এসময় পরিবারের সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ’
বেতাগী বাকেরগঞ্জ ও বেতাগী মির্জাগঞ্জ সড়কে একাধিকস্থানে রেইট্রি, চাম্বল, মেহগনি ও সুপারি গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে এছাড়া গ্রামের রাস্তা ও বাড়ি ঘরের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
উপজেলার ডিসির হাট, রানীপুর, হোসনাবাদের জলিসা বাজার, করুনা, মেহেরগাজী, ছোট মোকামিয়া, চরখালী, বদনীখালী, কুমড়াখালী, ভোড়া, কালিকাবাড়ি, মিরের হাট ও বেতাগী পৌর শহরের ৮ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নি¤œাঞ্চল এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী , এ উপজেলা কৃষি ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শীতকালীন শাকসবজি লাউ কুমড়া, লালশাক,পালংশাক, ডাটা, ফুলকফি, বেগুন, গাজর, টমেটো, শালগমসহ ২ শ ৫০ হেক্টর, ১০ হেক্টর জমির পানের বরজ, পেঁপে ২ হেক্টর এবং কলা ১০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইছা বলেন,‘ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে কৃষি বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রণোদনা বরাদ্দ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বন্টন করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন,‘ সড়কের গাছ অপসারণে স্বেচ্ছাসেবক গাছ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।’