বরিশাল
কাজে আসছে না বিসিসির সৌন্দর্য্য সংস্কার বাজেট
ব্যানারে আড়ালে ঢাকা পড়েছে বরিশাল নগরীর সৌন্দর্য
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা-সংবলিত ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে আছে বরিশাল শহর। দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য্য, সৌন্দর্যবর্ধন স্থাপনা, সড়ক বিভাজক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর ও মোড়ে এসব বিজ্ঞাপন সামগ্রী এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ঢাকা পড়েছে নগরীর সৌন্দর্য্য। নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনে বিসিসির নতুন বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ থাকলেও এসব বিজ্ঞাপন সামগ্রীর জন্য সৌন্দর্য হারাচ্ছে নগরী। বিভিন্ন সময় বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে নানান শৈল্পিক স্থাপনা।
এসকল স্থাপনার জন্য ব্যয়ও করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এছাড়াও এসকল শৈল্পিক স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও ব্যয় ধরা হয় কোটি টাকা। এসকল শৈল্পিক স্থাপনার মাধ্যমে বরিশাল তথা বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। যেমন-নগরীর কীর্ত্তনখোলা নদীর পাড়ের সৌন্দর্য্য বর্ধন, কাঞ্চন পার্ক, পাবলিক স্কয়ার, জিলা স্কুলের সামনের সৌন্দর্য্য বর্ধন, বিবির পুকুর পাড়ের সৌন্দর্য্য বর্ধন, চৌমাথা লেক, আমতলার মোড়, লেক ও পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যানের সৌন্দর্য্য বর্ধনসহ আরো অনেক। এছাড়াও রয়েছে রূপাতলীর সুরুভী চত্ত্বর, আমলতার মোড় এলাকায় বিজয় বিহঙ্গ ও জিলা স্কুলের মধ্যে স্থাপন করা হয় এফ-৬ জঙ্গী বিমান।
বরিশাল শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও তরুণদের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত করার লক্ষে ২ ফেব্র“য়ারী ১৯৯৬ ইং সালে বিমানটি অনুদান দেয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং অর্থায়ন করে অগ্রণী ব্যাংক। তবে বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যানারের কারণে বিমানটি আর চোখে পড়ে না। জিলা স্কুলের গেটের সামনে বসানো হয় বরিশালের ঐতিহ্যবাহী একটি গাড়ি। সেটাও এখন ব্যানারে ঢাকা পড়ে গেছে। রূপাতলী গোল চত্ত্বরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন সুরুভী চত্ত্বর। সেটা এখন ব্যানার ও ফেস্টুনের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নগরীর বিবির পুকুরের পাশে স্থাপন করা হয়েছে সোহেল চত্ত্বর। এখন সেটিকে ব্যানার চত্ত্বর বললেও ভুল হবে না।
বিবির পুকুরের আরেক পাশে স্থাপন করা হয়েছে পাবলিক স্কয়ার। যার সৌন্দর্য্য পুরোপুরি ঢেকে গেছে ব্যানারে। নগরীর প্রতিটি সৌন্দর্য্যই এখন ব্যানারে ঢাকা পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আসলে নাম সর্বস্ব কিছু নেতাকর্মীরা তাদের ছবি দিয়ে বড় বড় ব্যানার করে নগরীর সৌন্দর্য্য ঢেকে ফেলেছে। রাস্তার মধ্যে ব্যানার দেয়ার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে না পেয়ে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। নগরীর এমন কোনো সড়ক নেই যে সড়কে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ একবার টানিয়েই যেনো স্থানটি তিনি দখল করে নেন। আর নির্ধারিত উৎসব/অনুষ্ঠান বা শুভেচ্ছান্তের মেয়াদ শেষ হলেও নামানো হয় না ব্যানারটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যক্তির ছবি থাকায় অন্য কেউ অপসারণ করতেও বিব্রতবোধ করেন। এসব ব্যানারে বরিশাল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এমনটাই জানিয়েছেন বরিশালের সচেতন মহল।
তারা বলেন, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ব্যানার থাকবে এটাই স্বাভাবিক তবে নগরীর সৌন্দর্য্য ঢেকে নয়। তাছাড়া জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিকে একেবারেই ছোট করে ব্যানারের এক কোণায় স্থাপন করা হয়। যা জাতীয় নেতৃবৃন্দের জন্য অত্যন্ত সম্মানহানীকর।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, বরিশাল নগরীর সৌন্দর্য্য রাক্ষার্থে এবারের বাজেটের একটি বড় অংশ রাখা হয়েছে। তবে ব্যানার অপসারণ নিয়ে এই মূহুর্তে কিছু বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক ব্যানারগুলোতে সিনিয়র নেতা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ থাকায় আমরা খোলার ব্যবস্থা নিতে পারছি না, তবে তাদেরকে ব্যানারগুলো খোলার জন্য বলা হয়েছে।