বরগুনা
বরগুনায় নিখোঁজের চারদিন পর জেলের মৃত্যু দেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মা ইলিশ ধরতে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কাটিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গোপসাগর মোহনায় পড়ে গিয়ে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তিন দিন পর গতকাল সোমবার রাত এগারোটার সময় বাবুগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির সদস্যরা গোড়া পদ্মা গ্রামের পায়রা নদীর চর থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত জেলের নাম সুজন (১৯)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের আক্কাস মাঝির ছেলে।
এব্যাপারে এফ বি মা ফাতেমা ট্রলারের মাঝি হেমায়েত বলেন গত ২৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে পাথরঘাটা থেকে ট্রলার ছেড়ে আসার পর বিষখালী নদীর মোহনার কাছাকাছি এসে সকলকে ঘুমিয়ে পড়তে বলি। এসময় সুজন ট্রলারের পিছনে ঘুমাতে যায়। ট্রলারের পিছনে শুইছে জানতে চাইলে সে বলে অনেক গরম লাগে তাই এখানে শুইছি। মাঝি এব্যাপারে বলেন, তখন শীত লাগতে ছিল আমি জ্যাকেট পড়ে ট্রলার চালাতে ছিলাম। এরপরে ফকিরহাট এলাকার কাছাকাছি গেলে ট্রলারের ষ্টাফরা বলে বিছানা দেখি কোন মানুষ দেখিনা। এসময় খোঁজ নিলে সুজনকে দেখতে না পেয়ে আমি ট্রলার ঘুরিয়ে সুজনকে খুজতে থাকলেও তার কোন হদিস পাইনি। গতকাল বিকেলে আমাদের স্হানীয় মেম্বার ফোনে জানালে ঘটনাস্হলে গিয়ে সুজনের লাশ দেখতে পাই। মৃত্যুর কারণ হিসাবে জানতে চাইলে মাঝি হেমায়েত সোনালী নিউজ কে বলেন, সুজন প্রায়ই নেশা করতো। ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার গায়ে থাকা শার্টের পকেটে গাঁজা পাওয়া গেছে। তবে কি কারণে সাগরে পড়ে গেছে সে বিষয়ে সঠিক জানা নেই বলে জানান।
বাবুগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গতকাল নলটোনা ইউনিয়নের গোড়া পদ্মা গ্রামের পায়রা নদীর চড়ে জালে লাশ আটকে পড়ার খবর পাই। রাত এগারোটার সময় লাশ চর থেকে উঠিয়ে আনা হয়। এসময় লাশের খবর পেয়ে ছুটে আসা আত্মীয় স্বজনেরা লাশ সনাক্ত করে। সকালে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।