বরিশাল
বকেয়া বেতনের দাবিতে ফরচুনে বিক্ষোভ, শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
বরিশাল শিল্পনগরীর জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজের শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে কারখানার সকল শ্রমিক একযোগে রাস্তায় নেমে পড়লে কাউনিয়ার বিসিক এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে কাউনিয়া থানা পুলিশ হস্তক্ষেপে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানা থেকে বেরিয়ে সামনের সড়কে অবস্থান নেন এবং সেখানে তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় ডিউটিরত আনসার সদস্য এবং ফরচুন সু হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সেখানে উভয়গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কাউনিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, আগস্ট মাস শেষ হতে চললেও জুলাই মাসের বেতন এখন পরিশোধ করা হয়নি। এই বকেয়া বেতন চাওয়ায় বৃহস্পতিবার বেশ কয়েক শ্রমিককে কারখানায় আটকে মারধর করা হয়। মূলত এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে কারখানার শ্রমিকেরা।
তবে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ফরচুন সু কোম্পানির ডিজিএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলছেন, বাইরের একটি গ্রুপ শ্রমিকদের উস্কানি দিয়েছে। এতে কিছু সময় কারখানার সামনে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা শান্ত হয়ে যান।
বিকেল সাড়ে ৩টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল নিশাত জানান, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। এবং ঘটনাস্থল ফরচুন কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন আছে।
আলোচিত এই কোম্পানির মালিক মিজানুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফরচুন বরিশাল নামে টিম পরিচালনা করছেন। বিগত সময়ে তিনি জন্মস্থান বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তোড়জোড় চালিয়েছিলেন। গত ৫ বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে মিজান কোনঠাসা হয়ে পড়লেও তার দল ফরচুন বরিশাল জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।’