আমতলি
বরগুনায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
বরগুনার আমতলীতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রনজুয়ারা সিপু।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হৃদয় খান (২১) আমতলী উপজেলার পূজাখোলা ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা। রায়ে তাঁর সহযোগী জাহিদুল ইসলামকে (২০) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছর বয়সী মেয়েটি ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পাশের বাড়ির খেতে শাক তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন মেয়েটির বাবা আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর মধ্যে মেয়েটির ভাইয়ের মোবাইল ফোনে একজন মেসেজ দিয়ে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ওই মেসেজর সূত্র ধরে পুলিশ হৃদয়কে ৭ ফেব্রুয়ারি আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানান, মুক্তিপণ না পেয়ে তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং তার হিজাব গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন। পরে হৃদয়ের দেখানো স্থান থেকে পুলিশ ছাত্রীটির লাশ উদ্ধার করে।
আজ রায় ঘোষণার পর মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমার নাবালিকা মেয়েকে আসামি হৃদয় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পেয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ হোগলা পাতার মধ্যে দুজনে লুকিয়ে রাখে। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। দ্রুত রায় বাস্তবায়িত হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘বাদী অভিযোগ করেছে, তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামত নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল উচ্চ আদালতে আপিল করবে।’