বরিশাল
বরিশালে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে রোডম্যাপের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুরের দিকে নগরীর কাশিপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশের গেটে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই বিক্ষোভ করেন।
পরে বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি আন্দোলনকারীদের পাঁচজনকে নিয়ে ভেতরে যান। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে না থাকায় আলোচনা ছাড়াই ফিরে এসে কার্যালয়ের গেটের সামনে বেলা ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনের প্রধান সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন আগে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দাবিগুলো লিখে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম। দাবি মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই দাবি আদায়ে সরকার কতটুকু ভেবেছে, তা জানতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা শুনেছি, আমাদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। যদি সত্যি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে কত দিনের মধ্যে কী কী সমস্যা দূর করা হবে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্যাডে লিখিত আশ্বাস এবং রোডম্যাপ দিতে হবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতের সংকট সমাধানে স্থায়ী পরিবর্তন চাচ্ছি।’
রনি আরও বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ট্রলি, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ হরিজন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের পরিচ্ছন্নতায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শতাধিক অচল মেশিন সচল করেছে। বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে সাপের অ্যান্টিভেনম দিয়েছে।’
মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন থামিয়ে দিলে সিন্ডিকেট আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে? এসব সমস্যা শুধু শেবাচিম হাসপাতালেই না, সারা দেশের সব হাসপাতালের অবস্থা একই। বিভাগীয় কমিশনারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। সেই ফল কতটুকু, তা জানতে এসেছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি লিখিত পাঠাবেন কি না, তা জানতে এসেছি। যদি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে না আসেন, তাহলে দেশের জনগণকে নিয়ে মাসের পর মাস সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা চলে গেছেন। ঘটনাস্থলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’