ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে পুকুরপাড়ে পড়ে ছিল যুবকের গলাকাটা লাশ
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় পুকুরপাড় থেকে সোহেল কারিগর (৩০) নামের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নবগ্রাম ইউনিয়নের বাউকাঠি গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে। তিনি নবগ্ৰাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাউকাঠি গ্রামের জিন্নাত আলী কারিগরের ছেলে।
জানা গেছে, সোহেল ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটরযান ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ করতেন। তিনি দোকানেই থাকতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে রনি তালুকদার নামের এক ব্যক্তি ঘাস কাটতে গিয়ে পুকুরপাড়ে গলাকাটা রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় সোহেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি দফাদার আক্কাস আলী ফরাজীকে খবর দেন এবং আক্কাস আলী পুলিশকে বিষয়টি জানান। ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সোহেলকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহস্পতিবারও সোহেলকে তাঁর দোকানে দেখা গেছে। তাঁর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। দোকানের ভেতরে তিনি থাকতেন।
সোহেলের বড় ভাই হায়দার বাদশা বলেন, ‘আমি ঢাকায় থাকি। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। প্রায় দেড় বছর আগেও আমার ভাইকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বিষয়টি সে সময় থানা-পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। আজ কে বা কারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তা জানি না। আমরা ছয় ভাইবোন, তাঁদের মধ্যে সবার ছোট ছিল সোহেল।’
হায়দার বাদশা বলেন, ‘প্রতিবার বাড়ি এলে সবার আগে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতাম। ভাই দোকানেই থাকত। শেষবার আসার সময় তাঁকে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য টাকা দিয়ে এসেছিলাম। আমার ভাইকে এভাবে হত্যা করা হবে, কল্পনাও করিনি।’
ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দলও ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।