বরিশাল
কীর্তনখোলার তীর ঘেঁষা কলোনিতে ছোটদের হাতেই গড়ে উঠল ১৫ শহীদ মিনার
শিশুদের মধ্যেও শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোন আয়োজনের যেন কমতি নেই। বিভিন্ন পারা মহল্লায় প্রতি বছর এ দিনে শিশুরা নানা আয়োজন করে দিনটি উদযাপন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর রসুলপুর কলোনিতে প্রায় ১৫টি শহীদ মিনার তৈরি করেছে শিশুরা। বেশ কয়েকটি গ্ৰুপে ভাগ হয়ে শিশুরা এই শহীদ মিনারগুলো তৈরি করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনার তৈরির বিষয়টি নিয়ে শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনার।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগের দিন থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত নগরীর রসুলপুর কলোনিতে ছিল এই উৎসাহ উদ্দীপনা।
কোন কোন জায়গায় শিশুদের উদ্যোগে পাঁচ টাকা দশ টাকা করে চাঁদা তুলে ও ঘরে ঘরে থেকে চাল-ঢাল উঠিয়ে আয়োজন করা হয় খিচুড়ির।
আবার রান্না শেষে বিতরণ করা হয় সবার মাঝে। এমন আয়োজন প্রতিবছর করা হয় বলে জানান এক শিশুর অভিভাবক।
সাকিব নামের এক শিশুর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, বেশ কিছু বছর ধরেই এই আয়োজন করা হচ্ছে এই কলোনিতে।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে এই কলোনির সবার মাঝে অন্য রকম এক আনন্দ বিরাজ করে। আর এ আয়োজনে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
জানা গেছে, এই পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। তারা শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে থাকে। ফলে শিশুরাও তাদের কাজে পায় ভিন্ন এক অনুভূতি।
স্থানীয়রা জানান, মূলত ১০-১২ বছর আগে শহীদ মিনার নির্মাণের এমন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী।
তার হাত ধরেই এই কলোনিতে এমন আয়োজন শুরু হয়। এরপর থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি মানেই কীর্তনখোলা নদীর তীরে রসুলপুর কলোনিতে ভিন্ন এক আয়োজন। পুরো আয়োজনটি শিশু কেন্দ্রীক হলেও ছোট-বড় সবাই এতে সহায়তা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা চুন্নু বলেন, শিশুরা শহীদ মিনার নির্মাণের এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য একুশে ফেব্রুয়ারির এক সপ্তাহ আগে থেকেই টাকা জমাতে শুরু করে। সেই জমানো টাকা দিয়ে গাঁদা ফুল ও রঙিন কাগজ কিনে সাজায় শহীদ মিনার।
লাবনী নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, মনীষা আপা আমাদের এই শহীদ মিনার দেখে পুরস্কার দেয়। শুধু পুরস্কার নয় শহীদ মিনার সম্পর্কেও ধারণা দেয়।
লাবনীর মা বলেন, আমার মেয়ে তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রঙ্গিন কাগজ, রং ও কাঠের গুড়া কিনে এনে শহীদ মিনার বানিয়েছে। সে বানাতে পেরে বেশ খুশি। তার ভালো লাগা আমাদের কাছেও ভালো লাগছে।
সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, শিশুদের উৎসাহ দিতেই ১৩ বছর ধরে এমন আয়োজন।
কলোনির শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছাড়াও ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। তার এই আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, রসুলপুর কলোনি এটি দারিদ্র্য এলাকা, এখানকার শিশুরা প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠে। এখানে মাদকের, সন্ত্রাসের বিস্তার রয়েছে এবং নানা ধরনের অন্ধকার জগতের হাতছানি এলাকাগুলোতে রয়েছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশ, বেড়ে ওঠা, দেশপ্রেম সৃষ্টির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


