বরিশাল
বরিশালে ভোটের মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ হাজার সদস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বরিশালে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পুরো জেলাজুড়ে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। ভোটের দিন মাঠে সক্রিয় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের এক সভায় এই সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সভায় জানানো হয়, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র্যাবের সমন্বয়ে এই নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় জেলা পুলিশের বড় একটি অংশ মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। বরিশাল জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দুইজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম দায়িত্ব পালন করবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় ১ হাজার ২৮৫ জন বিএমপি সদস্য ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন। আধুনিক নজরদারির অংশ হিসেবে ১০৩টি বডি অন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে আনসার ও ভিডিপি বাহিনী। মোট ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার সদস্য ভোটের দিন মাঠে থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবেন, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয় সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিও থাকবে দৃশ্যমান। বরিশাল জেলায় এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য থাকবে একটি করে সেনা পেট্রোল টিম।
এ ছাড়া বিজিবির ১৪টি প্লাটুন জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন থাকবে। বরিশাল সদরে পাঁচটি এবং বাকি নয়টি উপজেলায় নয়টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। র্যাবের ছয়টি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় জলপথেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা সালাম নদীপথে দায়িত্ব পালন করবে, যেখানে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক থাকবেন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। নদীঘেঁষা আটটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে নৌ পুলিশ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



