বরিশাল
প্রায় এক দশক বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হচ্ছে বেলতলা ও রূপাতলীর দুটি পানি শোধন প্লান্ট
প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু করা হচ্ছে বরিশাল নগরীর বেলতলা ও রূপাতলী এলাকার দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্লান্টের বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি হয়ে পড়েছে অচল। ফলে নষ্ট হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি অনেক যন্ত্রাংশও হয়েছে চুরি। সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নতুন করে প্লান্টার বসানোর কাজ চলছে, খুব শিগগিরই পানি সরবরাহ করা হবে।
সুপেয় পানি সংকট দেখা দেয়ায় দীর্ঘ এক দশক পর আবারও বরিশাল নগরীর বেলতলা ও রূপাতলী এলাকার দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। এর আগে ২০১২ সালে বেলতলা এবং ২০১৩ সালে রূপাতলী এলাকায় প্লান্ট দুটি নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালে শেষ হলেও নানা জটিলতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় নগরীতে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। ফলে নতুন করে বসানো হচ্ছে প্যানেল বোর্ড, মোটর, পাম্প, ক্যাবল ও ফিল্টারসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি।
এবিষয়ে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘নতুন করে প্লান্টার বসানোর জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারপর আমরা টেন্ডার দেই এরপর বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশাল শহরের আন্ডার গ্রাউন্ডের পানির ওপর যে চাপ তা কমে যাবে, এবং বরিশাল নগরী তলিয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা তা কমবে। এ প্লান্টের মাধ্যমে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড ঠিক রেখে নদীর পানিকে সুপেয় পানি করে নগরীতে সরবরাহ করা হবে।’
বরিশাল নগরীতে যেখানে ২০ ফুট নিচে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পাওয়া যেত, বর্তমানে তা নেমে গেছে ৪০ থেকে ৫২ ফুটে। ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় প্লান্ট দুটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
পরিবেশ ফোরামে বরিশাল বিভাগের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘যতটুকু পানি প্রাপ্তি হবে আমরা ভূগর্ভস্থ থেকে পানি পাবো। এই আশাটি আমরা করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রকমের যেন তালবাহানা না হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি যেন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টি চালু করা হয়।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার। কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার। প্লান্ট দুটি চালু হলে প্রতিটি প্লান্ট থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। ফলে এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে, চাপ কমবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপরও।


