বরিশাল
ইসলামের নাম দেখলেই আবেগপ্রবণ হয়ে ঈমান বিসর্জন দেয়া যাবে না : ছারছীনা পীর
নিজস্ব প্রতিবেদক : আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন- প্রতিহিংসা, পরশ্রীকাতরতা, বিনা কারণে কারো প্রতি বিদ্বেষ ভাব পোষণ করা কোনটিই একজন মুমিনের চরিত্র হতে পারেনা। একজন মুমিন যখন কাউকে নসিহত করবে তখন তার উচিত সংশোধনের উদ্দেশ্য থাকা। আমাদের যাবতীয় কার্যক্রম হবে ইখলাসের সাথে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। বান্দার কোন কাজ যদি লোক দেখানো উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তবে তা নিছক নেফাকি ভিন্ন অন্য কিছুই নয়।
পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- বর্তমানে লক্ষ্য করা যায় একদল লোক ইসলামের নাম ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। তাদের যত্রতত্র ইসলামের নাম দেখলেই সেখানে আবেগপ্রবণ হয়ে নিজের ঈমানকে বিসর্জন দেয়া যাবে না। বরং যাচাই করে হক্কানী আলেমদের পরামর্শ সহকারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আপনাদেরকে আমি যা কিছু বলি তাহা ইসলাহ তথা সংশোধনের জন্যই বলি। কারো প্রতি হিংসা করে কোন কথা বলিনা।
বর্তমানে সমাজে একদল নামধারী লোক রয়েছে যারা আক্বীদার প্রতি উদাসীন। আবার কেহ কেহ মহান আল্লাহ তায়ালা, নবী-রাসূল (আঃ), সাহাবায়ে কেরামদের বিরুদ্ধে এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বেফাঁস মন্তব্য করছে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে এ দেশে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে আসেনি; ইসলাম এসেছে আউলিয়ায়ে কেরামদের মাধ্যমে। যারা বিভিন্ন ধরণের বেফাঁস মন্তব্য করবে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ।
পীর ভাই-মুহিব্বীনদের উদ্দেশ্য করে পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- বর্তমানে ইসলামের দোহাই বিভিন্ন দুনিয়াবী কাজে আমাদের মা-বোনদেরকে ব্যববহার করা হচ্ছে। বিশেষভাবে পর্দার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আপনাদের মা ও বোনদের এমন কোনো কাজে যুক্ত করবেন না, যাতে পর্দার খেলাফ হয় বা শরিয়ত লঙ্ঘিত হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুময়া ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলাধীন কামারখোলা খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের দুইদিনব্যাপী ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলের শেষদিন আখেরী মুনাজাতপূর্ব আলোচনায় হযরত পীর ছাহেব কেবলা একথা বলেন।
দুইদিনব্যাপী মাহফিলে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর উপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাওলানা কাফিলুদ্দীন সরকার ছালেহী, ছারছীনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রূহুল আমিন আফসারী, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারিয়া দ্বীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মোঃ মামুনুল হক, দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ওসমান গণী ছালেহী, ঢাকা শ্যামলী শাহী মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মোঃ মোরশেদ আলম ছালেহী, হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ, বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর সাবেক সভাপতি মাওলনা শামসুল আলম মোহেব্বী প্রমূখ।
আখেরী মুনাজাতের পূর্বে মাহফিল ময়দান পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং মুনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় আমীন আমীন ক্রন্দনের ধ্বনীতে আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।



