বরিশাল
কাউনিয়ায় মেধাবী ছাত্র সৌমিত্রের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ধুম্রজাল
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর কাউনিয়ার জেলে বাড়ির পোল এলাকায় অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র সৌমিত্র মন্ডলের (১৭) মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজালের হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে নিজ বাসায় এই ঘটনা ঘটলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এবং সন্দেহজনক আচরণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি কি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জিএম পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সুকেস মন্ডলের ছেলে সৌমিত্র রবিবার রাতে ৮ টার দিকে নগরীর কাউনিয়া এলাকার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দেয়। তড়িঘড়ি করে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় বোন সুশিলা ওই হাসপাতালেই সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সৌমিত্রের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্যের কোন মিল নেই।
সৌমিত্রের এক স্বজন সরাসরি গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, সৌমিত্র অসুস্থতার কারণে মারা গেছে।
বড় বোন সুশিলা এবং আরেক স্বজন বলছেন, সৌমিত্র নেশায় আসক্ত ছিল এবং তার মানসিক সমস্যা ছিল। তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
তবে সৌমিত্রের অন্য এক ঘনিষ্ঠ স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নেশা বা মানসিক সমস্যার তথ্যকে নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মতে- সৌমিত্র অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী ছাত্র ছিল।
কয়েকদিন আগেও তার বাসায় প্রাইভেট শিক্ষকরা পড়াতে এসেছিলেন। কোনো শিক্ষকই তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি। তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা গুরুতর পারিবারিক বিবাদ আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
একজন শান্ত ও মেধাবী ছেলে হঠাৎ করে কেন গলায় ফাঁস দেবে, আর পরিবারই বা কেন একেক সময় একেক কথা বলছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো বড় কারণ লুকানো আছে, এমনটা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী।
সৌমিত্রের মৃত্যুটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রবল সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণ হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



