ঝালকাঠি
ঝালকাঠি-১ আসন : জোটের মাঠে ভোটের লড়াই মিতুর
ঝালকাঠি-১ আসনে ভোটারদের নজর এখন ডা. মাহমুদা আলম মিতুর দিকে। বরিশাল বিভাগে ২১টি আসনের মধ্যে তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপির একমাত্র নারী প্রার্থী তিনি। পিরোজপুরে দলটির আরেকজন প্রার্থী থাকলেও শুরু থেকেই মিতুর উপস্থিতি রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রে।
তবে ভোটের আগেই জোটের সমর্থন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। কারণ এই আসনে ইসলামপন্থী জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের প্রার্থীও রয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, মিতু ঝালকাঠি-১ আসন থেকে সরে দাঁড়ালে বরিশালে এনসিপির রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রায় শেষ হয়ে যাবে। তাই ঝালকাঠি-১-এর লড়াই এখন শুধু মিতুর নয়, বরং এনসিপির টিকে থাকার লড়াইও হয়ে উঠেছে।
বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা ড. ফয়জুল হক এখন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় রয়েছেন। জামায়াত তাদের পূর্ব ঘোষিত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ফয়জুল হককে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন।
ফয়জুল হক ঝালকাঠীর পীর এ কামেল কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি হওয়ায় ইসলামপন্থীরা এই আসনে তাঁকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে ভোটযুদ্ধ কেবল প্রার্থীই নয়, জোটের সমর্থনের ওপরও কেন্দ্রীভূত। সবার একটাই প্রশ্ন- ইসলামপন্থী জোটের চূড়ান্ত সমর্থন কে পাবেন, ড. ফয়জুল নাকি ডা. মিতু?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলছেন, নীতিগত কারণেই এই আসনে ফয়জুল হককে দলীয় সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসলামপন্থী দলের একাধিক শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য, ফয়জুল হক কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি হওয়ায় তারা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপি ছেড়ে আসার কারণে ঘোষিত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ফয়জুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ড. ফয়জুল হক বিএনপির মালয়েশিয়া শাখার সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ আগস্ট দেশে ফেরার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও বিএনপি মনোনয়ন না দিলে নিজের ইচ্ছায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
পরে জামায়াত তাঁকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়।
ফয়জুল হক রাজাপুরী হুজুরের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান এবং কামেল হযরত কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি। গত ১৬ বছর ধরে তিনি অনলাইন টকশো, লেখালেখি ও মাঠপর্যায়ে অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ফয়জুল বলেন, মালয়েশিয়ায় বিএনপির দলীয় পদ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ড তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। জামায়াতের মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সরকার গঠন সম্ভব।’
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তিনি এনসিপির ডেপুটি চিফ অরগানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জোটবদ্ধ নির্বাচনের পরও ইসলামী দলগুলোর নেতারা তাঁকে পুরুষ প্রার্থীর তুলনায় বেশি সময় ও সহযোগিতা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মিতু বলেন, ‘এটি নারী হিসেবে আমার ন্যায্য সম্মান ও সমর্থন।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী লড়াই আমাকে শুধু ভোটের রাজনীতি শেখায়নি, মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও প্রত্যাশার গুরুত্বও বুঝিয়েছে।’
শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মিতু বলেন, বিষয়টি এখন এনসিপির একার নয়। কারণ ভোটে এনসিপি জোট করেছে। এনসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১টি আসনের একটি আসনে দলীয় মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে।
মিতু আরো বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই এলাকার সুধীজনদের সঙ্গে কাজ করে আসছি। এখন নিয়মিত অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারণা চালাই। জোট যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটেই মেনে নেব।
এদিকে, ঝালকাঠি-১ আসনে এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি থেকে রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে ইব্রাহীমসহ ৯ জন। ভোটের মাঠে এখন শুরু হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
জামায়াতের ফয়জুল নাকি এনসিপির ডা. মিতু- কে জোটের সমর্থন পাচ্ছেন, সেই দিকেই নজর ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কারণ পিরোজপুর-৩ আসনে এনসিপির প্রাথী মো শামীম হামিদীর অবস্থান তেমন একটা ভালো নয় বলে মনে করছে অনেকে।


